নতুন মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানায় তৃণমূল। দলীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলার ভাষা ও বাঙালির অস্তিত্ব নিয়ে কোনো আপস হবে না। মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন - এই লড়াই কেবল রাজনৈতিক নয়, বাংলার মর্যাদার লড়াই।

Ritabrata Banerjee
শেষ আপডেট: 2 September 2025 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ ঘিরে ফের শুরু হল রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ, ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৈরি তৃণমূলের মঞ্চ জোর করে ভেঙে দেয় সেনাবাহিনী। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দলটি নতুন করে আন্দোলনের মঞ্চ গড়ে তোলে ডোরিনা ক্রসিংসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা, কর্মী ও সমর্থক।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন - গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেওয়া একটি নক্কারজনক ঘটনা। এটি একেবারেই নজিরবিহীন। তাঁর অভিযোগ, সেনার এই পদক্ষেপ বিজেপির প্ররোচনায় হয়েছে।
নতুন মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানায় তৃণমূল। দলীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলার ভাষা ও বাঙালির অস্তিত্ব নিয়ে কোনো আপস হবে না। মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন - এই লড়াই কেবল রাজনৈতিক নয়, বাংলার মর্যাদার লড়াই।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, যত বাধাই আসুক না কেন ভাষার প্রশ্নে তারা কোনও ছাড় দেবে না। বাংলার গর্ব, সংস্কৃতি ও ভাষাকে রক্ষা করতে এই আন্দোলন চলবে।
এদিকে মঞ্চ ভাঙার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের মাইকের কানেকশন কেটে দিয়েছে, স্টেজ ভেঙে দিয়েছে, প্যান্ডেল আর্মিকে দিয়ে খুলিয়েছে। আমি সেনার বিরুদ্ধে নই, কারণ we are proud of our Army। কিন্তু সেনাকে যখন বিজেপির কথায় কাজ করতে হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে দেশটা কোথায় যাচ্ছে। এখানে রাস্তা বন্ধ ছিল না, অনুমতিও নেওয়া ছিল। চাইলে পুলিশকে জানানো যেত, আমরা নিজেরাই মঞ্চ সরিয়ে দিতাম। কিন্তু গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে প্রতিবাদের জায়গাটিকেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি যখন পৌঁছই, তখন প্রায় ২০০ সেনা আমাকে দেখে পালাচ্ছিল। আমি বললাম—আপনারা কেন পালাচ্ছেন? আপনারা আমার বন্ধু। এটা আপনাদের দোষ নয়, আপনারা বিজেপির নির্দেশে করেছেন। আমি সেনাকে নয়, বিজেপি দলটাকেই দোষ দিচ্ছি।”
আপাতত এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সেনা ও রাজনীতির সংঘাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে। তবে তৃণমূলের সাফ বার্তা, মঞ্চ সরিয়ে দিলেও আন্দোলন থামানো যাবে না।