তাঁর এও মন্তব্য, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ছোট ছোট বাঁধ তৈরি করা উচিত, যাতে অতিরিক্ত জল সংরক্ষণ সম্ভব হয়।

খোওয়াজা আসিফ
শেষ আপডেট: 2 September 2025 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে (Pakistan) ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি (Flood Situation)। কিন্তু এমন অবস্থার মধ্যেও দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী (Pakistan Defence Minister) খোওয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) যে মন্তব্য করেছেন তাতে একদিকে যেমন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে চলছে হাসাহাসি। তিনি মনে করেন, বন্যা হচ্ছে আশীর্বাদ! আর এই প্রেক্ষিতে দেশবাসীকে বিশেষ পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, “যাঁরা বন্যা নিয়ে প্রতিবাদ করছেন, তাঁরা বরং জল ঘরে নিয়ে যান। আমরা জলকে ড্রেনে ফেলে দিচ্ছি। অথচ এই জলই আমাদের ভরসা হতে পারে।” তাঁর পরামর্শ, কেউ যেন বন্যার জল নষ্ট না করে। বরং বালতি-ড্রামে ভরে ঘরে জমিয়ে রাখেন। তাঁর দাবি, এই জলকে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ হিসেবে দেখা উচিত।
Strongly condemn tone deaf comments by Defence Minister Khawaja Asif against the people of Sindh.
"Sindhis were blocking roads for the river. They should consider these floods as a blessing and keep the water in their homes." pic.twitter.com/UkKdBHCeis— Kumail Soomro (@kumailsoomro) September 1, 2025
পাশাপাশি তাঁর এও মন্তব্য, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ছোট ছোট বাঁধ তৈরি করা উচিত, যাতে অতিরিক্ত জল সংরক্ষণ সম্ভব হয়।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যে ক্ষোভ বাড়ছে পাকিস্তানের আমজনতার মধ্যে। কারণ, বাস্তবে ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। তথ্য বলছে, ২৬ জুন থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত শুধু পাঞ্জাব প্রদেশেই ৮৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বন্যায়, আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি। প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, হাজার হাজার গ্রাম জলমগ্ন। পাঞ্জাবের একাধিক জেলা বিপর্যস্ত। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও জলস্ফীতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, কৃষিজমি ও পাকা ফসল নষ্ট হয়ে খাদ্যসঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে পাকিস্তানে। আগামী দু’দিনে আরও বর্ষণের পূর্বাভাসে উদ্ধারের কাজও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সেই প্রেক্ষিতে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে তাই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য যেন পরিস্থিতিকে তুচ্ছ করার মতোই মনে হচ্ছে।
পাক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত ৪০ বছরের মধ্যে এত ভয়াবহ বন্যা দেখা যায়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ভয়াবহ বৃষ্টির কবলে পড়েছে পাকিস্তান। যার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রবল বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারত অতিরিক্ত জল ছাড়ার জেরেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি।