মঙ্গলবার তালিবান সরকারের এক মুখপাত্র এ খবর জানিয়েছেন। কিন্তু, এখনও বহু জায়গা থেকে ভগ্নস্তূপ সরানো যায়নি। জীবিত প্রাণের খোঁজ চলছে।

রবি ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে রিখটার স্কেলে ৬ তীব্রতায় প্রবল কম্পন হয়।
শেষ আপডেট: 2 September 2025 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১,৪১১ জন। মঙ্গলবার তালিবান সরকারের এক মুখপাত্র এ খবর জানিয়েছেন। কিন্তু, এখনও বহু জায়গা থেকে ভগ্নস্তূপ সরানো যায়নি। জীবিত প্রাণের খোঁজ চলছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করছে প্রশাসনই। মুখপাত্র বলেন, কুনার প্রদেশে ১,৪১১ জন মারা গিয়েছেন। ঘায়েল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও তিন হাজারের বেশি। বাড়িঘর ভেঙেছে প্রায় ৫,০০০-র বেশি।
রবি ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে রিখটার স্কেলে ৬ তীব্রতায় প্রবল কম্পন হয়। পাহাড়ি তরাই অঞ্চল হওয়ায় ভূমিধসে ঘুমন্ত অবস্থাতেই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতাভার নেয় তালিবান। তারপর থেকে এটি ছিল তৃতীয় বড় ভূমিকম্প। এমনিতেই আফগানিস্তান অত্যন্ত দরিদ্র দেশ। সেভাবে অর্থনৈতিক জোর বা পরিকাঠামোহীন একটি দেশ। তার উপর ইরান ও পাকিস্তান থেকে শয়ে শয়ে আফগান দেশে ফেরত আসায় চরম কষ্টে রয়েছে কাবুল প্রশাসন।
আফগানিস্তানকে নিয়মিত অর্থসাহায্য দিয়ে থাকে একমাত্র আমেরিকাই। তালিবান প্রশাসনকে তারা ৩.৭১ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। তবে ইদানীং তা কমিয়ে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছে সেদেশের সরকার। আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসার অর্থ অ্যাম্বুল্যান্স, ডাক্তার, ওষুধপত্র, চিকিৎসা সহায়কের সংখ্যাও অত্যন্ত কম।
কুনার প্রদেশের গাজিয়াবাদ নামে এক গ্রামের বাসিন্দা আবদুল লতিফের সঙ্গে কথা বলেন আল জাজিরার প্রতিনিধি। ৫০ বছর বয়সি লতিফ জানান, তাঁর ছেলে, স্ত্রী ও মা বাড়ি ভেঙে পড়ে মারা গিয়েছেন। পাশে থাকা তাঁর আত্মীয়দের দুটি বাড়িও ধূলিসাৎ হয়েছে। একটি বাড়িতে ১৩ জন ও অন্যটিতে ১১ জন ছিলেন। তাঁদের কেউ বেঁচে নেই। এখানে এখনও কোনও সাহায্য এসে পৌঁছয়নি। রাতে প্রবল ঠান্ডা তার মধ্যে খাবার নেই, আমরা কী করে বেঁচে রয়েছি তা কেবলমাত্র আমরাই জানি। রব্বানি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, আমার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। বাবা-মা, স্ত্রী ও চার সন্তান সকলেই ধ্বংসস্তূপের ভিতর আটকে রয়েছে। এখনও উদ্ধার করতে কিংবা ধ্বংসস্তূপ সরাতে কেউ আসেনি।