বিধানসভা ভোট আর বেশি দূরে নয়। এই আবহে যখন এলাকার মানুষের সমর্থন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, তখন মনিরুলের বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন তাঁকে যতই দোষী ঠাওরাক না কেন, ফরাক্কার মানুষ তাঁর পাশেই আছে।

মনিরুল ইসলাম
শেষ আপডেট: 3 February 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। সংবিধান মেনে চলেন। এসআইআর প্রক্রিয়া (SIR News) ভন্ডুলের কোনও উদ্দেশ্য ছিল না তাঁর। এসআইআর পর্বে ফরাক্কার বিডিও অফিসে ঝামেলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আত্মপোলব্ধি হয়েছিল অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের (Manirul Islam)। সবটা লিখিত জানিয়েওছিলেন। অথচ সেই ঘটনাই এখন যেন তাঁকে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক উচ্চতায় তুলে ধরেছে। এলাকার মানুষের চোখে তিনি এখন কার্যত ‘রবিন হুড’ (Robin Hood)।
সাড়ে চার বছর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলালেও, বিডিও অফিসের ঘটনার পর থেকেই মনিরুলের মনে হয়েছে, এত দিনে তিনি অন্তত একটা “কাজের কাজ” করতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পরে মানুষ তাঁকে সত্যিকারের বিধায়ক হিসেবে গ্রহণ করছে। এই মুহূর্তে সেই গ্রহণযোগ্যতাই তিনি উপভোগ করছেন। কারণ, এলাকার সাধারণ মানুষের একাংশ প্রকাশ্যেই বলছেন, তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়েই তিনি বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন।
বিধানসভা ভোট আর বেশি দূরে নয়। এই আবহে যখন এলাকার মানুষের সমর্থন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, তখন মনিরুলের বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন তাঁকে যতই দোষী ঠাওরাক না কেন, ফরাক্কার মানুষ তাঁর পাশেই আছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি। দুপুরে ফরাক্কার বিডিও অফিসে হঠাৎই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার ঠিক আগেই কয়েক জন বিএলও এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। সেই সময় দলবল নিয়ে বিডিও অফিসে ঢোকেন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। অবিলম্বে এসআইআর বন্ধ করার দাবি ওঠে। অভিযোগ, এর পরেই বিডিও অফিসের প্লাস্টিকের চেয়ার ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়।
বিডিও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে মনিরুল সেদিন বলেন, “এসআইআরের নামে রাম আর রহিমের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। কারও নাম রাম শুনলেই নথি লাগছে না। আর নাম রহিম হলেই চোদ্দো গুষ্টির খতিয়ান চাওয়া হচ্ছে! নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিচারিতা আমরা মানব না। ফরাক্কার মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয়, মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে।”
ঘটনার পরেই নির্বাচন কমিশন রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারকে ফোন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই দিনই ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে। পরে কমিশন সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দেয়, মনিরুলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় এক দিন কেটে গেলেও এফআইআর দায়ের হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই প্রশাসনের উদ্দেশে চিঠি দেন মনিরুল।
চিঠিতে মনিরুল স্পষ্ট করেন, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর নিয়ে তিনি আসলে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও মতামতই তুলে ধরেছিলেন। ভোটার তালিকার এই বিশেষ সমীক্ষা মানুষের সুবিধার জন্য এবং ভোটাধিকার সঠিক ভাবে প্রয়োগের উদ্দেশ্যেই করা হয়, যা সুপ্রিম কোর্টও বিবেচনা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার পরে জঙ্গিপুর মহকুমা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে মনিরুল জানান, “আমার বক্তব্যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য, উস্কানি বা আইন ভাঙার চেষ্টা ছিল না। কেউ যদি আমার কথার ভিন্ন অর্থ করে থাকেন, তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। আমি সব সময় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তাদের দেওয়া সমস্ত আইনসম্মত নির্দেশ মেনে চলব।”