এবারের বাজেটে একাধিক জনকল্যাণমূলক ঘোষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তাদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই তালিকার শীর্ষে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 February 2026 19:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট (West Bengal Budget 2026) পেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ভোটের আগে জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরার কৌশলে নেমে পড়ল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বাজেট ঘোষণার পরের দিনই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একযোগে সাংবাদিক বৈঠক করেছে তৃণমূল। লক্ষ্য একটাই - বাজেটে ঘোষিত ভাতা বৃদ্ধি, নতুন প্রকল্প এবং সরকারি কর্মীদের স্বস্তির বার্তা দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই প্রচার পরিকল্পনা ছিল আগে থেকেই তৈরি। সেই অনুযায়ী জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সাংসদ, বিধায়ক এবং পুরসভার চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ জেলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বৈঠকগুলিতে জটিল বাজেটের পরিসংখ্যান নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোন ঘোষণার কী প্রভাব পড়বে, সেটাই সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্তর্বর্তী বাজেটকে কেন্দ্র করে এই সমন্বিত প্রচার স্পষ্টতই ভোটমুখী কৌশলের অংশ।
এবারের বাজেটে (State Budget 2026) একাধিক জনকল্যাণমূলক ঘোষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Laksmir Bhandar) প্রকল্পে উপভোক্তাদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই তালিকার শীর্ষে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (DA) ৪ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ারদের মাসিক পারিশ্রমিক ১,০০০ টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি একই হারে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের ক্ষেত্রেও।
যুবসমাজকে লক্ষ্য করে নতুন প্রকল্পও ঘোষণা করেছে সরকার। মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের জন্য ‘বাংলার যুবসাথী’ নামে নতুন ভাতা প্রকল্প চালুর কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাবন্ধুদের ভাতাও মাসে ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশের বেতন বৃদ্ধির জন্য বাজেটে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের জন্যও বাজেটে বিশেষ স্বস্তির বার্তা রয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ হেল্থ স্কিমের আওতায় পেনশনভোগীরা ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পান। নতুন ঘোষণায় জানানো হয়েছে, চিকিৎসা খরচ এই সীমা ছাড়ালে অতিরিক্ত ব্যয়ের ৭৫ শতাংশও ক্যাশলেস পরিষেবার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে সপ্তম পে কমিশনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এই সব ঘোষণাকেই ভোটের আগে নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল। তাই বাজেট পেশের পরদিন থেকেই রাজ্যজুড়ে সংগঠিত প্রচারে জোর দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী বাজেটকে ঘিরে এই ধারাবাহিক প্রচার আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলের কৌশলগত প্রস্তুতিরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।