শনিবার রাতে গ্রামের স্কুলের ভিতর থেকে হামিমুল ইসলামের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 January 2026 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের এক বিএলও-র রহস্যমৃত্যুকে (BLO death in Murshidabad) কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা সোমবার নতুন মোড় নিল। প্রথমে অভিযোগ উঠেছিল, এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপেই আত্মঘাতী হয়েছেন ভগবানগোলা ২ নম্বর ব্লকের আখরিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএলও হামিমুল ইসলাম। সেই অভিযোগে তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে মিছিলও করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে সামনে এল এক ভিন্ন ছবি।
পুলিশ জানায়, বিএলও হামিমুল ইসলামের কাছ থেকে বুলেট খান ২০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় তৃণমূলের সমর্থক (TMC supporter) হিসেবে পরিচিত, তাঁকে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা গেছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও বুলেট খান সেই টাকা ফেরত দেননি। উলটে হামিমুল টাকা চাইতে গেলে তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এসব চাপ সহ্য করতে না পেরে হামিমুল আত্মহত্যা (BLO Death case) করেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার রানিতলা থানার বাসিন্দা বুলেট খানকে গ্রেফতার করা হয় (TMC supporter arrested)। লালবাগ মহকুমা আদালত ধৃতকে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
শনিবার রাতে গ্রামের স্কুলের ভিতর থেকে হামিমুল ইসলামের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ এফআইআরে বুলেট খানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ধারায় মামলা রুজু করেছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র। স্থানীয় বিজেপির (BJP) নেতৃত্ব অভিযোগ করে, “তৃণমূল এইভাবেই মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল তথ্য ছড়ায়।” অন্যদিকে বিএলও অধিকার মঞ্চের আহ্বায়ক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একজন কর্মীর মৃত্যু নিয়েও এভাবে ছেলেখেলা হচ্ছে। বিএলও-দের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে।”
বিএলও হামিমুল ইসলামের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক যত গভীর হচ্ছে, ততই বাড়ছে চাপ। তদন্তে এখন দেখা হচ্ছে, এই মৃত্যুর আড়ালে আরও কোনও কারণ লুকিয়ে আছে কি না।