ইডির দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য ভিডিও বার্তায় প্রশ্ন তুলেছেন এই তল্লাশি অভিযান নিয়ে। তাঁর কথায় - আইপ্যাক অফিসে অভিযান যদি সত্যিই ন্যায্য কারণে হয়ে থাকে, তাহলে বিজেপি দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিক।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 January 2026 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার কলকাতায় আইপ্যাকের বর্তমান কর্ণধার প্রতীক জৈনের (IPac Pratek Jain) বাড়ি এবং সংস্থার সল্টলেকের অফিসে ইডি হানা (ED Raid on Ipac) প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে - এটা পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) নির্দেশে এই অভিযান হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযানের খবর পেয়ে পৌঁছে গেছিলেন প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়িতে। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূলের ভোটকৌশল, প্রার্থী তালিকা এবং একাধিক নথি হাতাতেই ইডির অভিযান। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা অবশ্য কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তের প্রেক্ষিতেই অভিযান হয়েছে বলে জানিয়েছে।
ইডির দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের তরফে যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya) ভিডিও বার্তায় প্রশ্ন তুলেছেন এই তল্লাশি অভিযান নিয়ে। তাঁর কথায় - আইপ্যাক অফিসে (Ipac) অভিযান যদি সত্যিই ন্যায্য কারণে হয়ে থাকে, তাহলে বিজেপি দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিক। কী প্রশ্ন? এক, প্রশান্ত কিশোরকে (Prasant Kishor) কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না, দুই বিগত তিন-সাড়ে তিন বছর ধরে ইডি-সিবিআই কী করছিল।
দেবাংশুর যুক্তি, ২০২০ সালের মামলার ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। সেই সময়ে আইপ্যাকের প্রধান ছিলেন প্রশান্ত কিশোর (Prasant Kishor)। ২১ সালের পর তিনি সংস্থা ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করে বিহারের নির্বাচনে লড়েন। তাই যে সময়ের মামলা সেই সময়ে বা পূর্ববর্তী সময়ে আইপ্যাকের প্রধান হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না।
তৃণমূল মনে করছে, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক চুক্তি থাকতে পারে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিহারের ভোটে (Bihar Elections) বিজেপিকে সাহায্য করা বা জেতানোর কি কৌশল ছিল প্রশান্ত কিশোরের দলের, সেই কারণেই কি তাঁকে ডাকা হচ্ছে না? অন্যদিকে, ঠিক বিধানসভা নির্বাচনের তিন মাস আগেই কেন এই হানা, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
দেবাংশুর বক্তব্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections) আগেও নানারকম ধরপাকড় হয়েছে। তবে গোয়া বিধানসভার পর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত সক্রিয়তা দেখায়নি ইডি-সিবিআই কেউ। তাঁর খোঁচা, ''মাঝের এই তিন বছর তাঁরা কি জয়নগরের মোয়া তৈরি করছিল না নলেন গুঁড়ের নাড়ু তৈরি করছিল। এই তিন বছর ঘুমিয়ে থেকে ভোটের আগেই কেন হঠাৎ সক্রিয়া হল তাঁরা।''
প্রসঙ্গত, প্রতীক জৈনের বাড়িতে দাঁড়িয়ে অমিত শাহকে (Amit Shah) নিশানায় এনে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, 'নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার, যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না।' "আমার দলের সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদি আমরা বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাই তাহলে কী হবে?" তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'এটাই কি ইডি এবং অমিত শাহর ডিউটি?'