বৃহস্পতিবার রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) প্রশ্ন তোলেন, একটি বেসরকারি সংস্থায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি হলে তাতে তৃণমূল কেন পথে নামছে?

সেলিম ও মমতা
শেষ আপডেট: 8 January 2026 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় আইপ্যাকের দফতর (ED Raid I-PAC) ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে ইডির তল্লাশি এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপস্থিতি ঘিরে তীব্র আক্রমণ শানাল সিপিআইএম (CPIM)। বৃহস্পতিবার রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) প্রশ্ন তোলেন, একটি বেসরকারি সংস্থায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি হলে তাতে তৃণমূল কেন পথে নামছে?
সেলিমের কটাক্ষ, স্কুল বন্ধ বা কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে তৃণমূল পথে নামে না, পরিযায়ী শ্রমিকেরা আক্রান্ত হলেও দলের কোনও সাংসদ সেখানে যান না। অথচ একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে হানা দিতেই বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। তাঁর দাবি, গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিআইএম নেতা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা দিয়ে বেআইনি কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে কলকাতা পুলিশ কমিশনার, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপির ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি। সেলিমের দাবি, তল্লাশির সময়ে সাধারণত সংশ্লিষ্ট জায়গা ঘিরে রাখা হয় এবং বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। তা হলে কেন শীর্ষ পুলিশকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেন— সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক আরও অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত বাহিনী থাকলে মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ তল্লাশির জায়গায় ঢুকতে পারতেন না। তাঁর দাবি, যে গাড়িতে নথি তোলা হয়েছে, সেটি তৃণমূলের নামে নথিভুক্ত। সরকারি এজেন্সির তল্লাশির সময় নথি দলের গাড়িতে তোলা আইনত অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আদৌ কোনও মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সেলিম।
ইডি সূত্রে এই তল্লাশি কয়লা পাচার কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে সেলিম বলেন, আই-প্যাক তো একটি ভোট কৌশল সংস্থা— সেখানে কালো টাকা এল কী করে, সেটাই তদন্তের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, কয়লা ও গোরু পাচারের টাকা এই সংস্থায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অর্থ এখানেই ঘোরাফেরা করছে।
ইডি ও সিবিআইয়ের (ED-CBI) ভূমিকাও আক্রমণের মুখে ফেলেন সিপিআইএম নেতা (CPM)। তাঁর দাবি, তল্লাশির কথা আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেই আই-প্যাক তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়। সেলিমের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি সঠিক তথ্য সামনে আনতে চায় না, বরং নাটক তৈরি করছে।
আই-প্যাকের সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের যোগসূত্র টেনে তিনি বলেন, এসআইআরের কাজে এই সংস্থার কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম রাখার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের মদতেই এই কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অতীতেও গণনা কেন্দ্রে আই-প্যাকের কর্মীদের ব্যবহার করে ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন সেলিম।
মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা প্রসঙ্গে অতীতের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। ভবানীপুর থানায় গিয়ে অভিযুক্ত ছাড়িয়ে আনা, আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণ লোপাট কিংবা ডিজিপি রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই গেলে সেখানে গিয়ে ধর্নায় বসার প্রসঙ্গ টানেন সেলিম।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) গ্রেফতারের সময় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক। তাঁর কথায়, সে সময় তো মুখ্যমন্ত্রী ছুটে যাননি। প্রতীক জৈন তৃণমূলের কেউ নন— তা হলে তাঁর সঙ্গে দলের কী সম্পর্ক? আইপ্যাককে তৃণমূলের আইটি সেল বলা নিয়েও কটাক্ষ করেন সেলিম।
শেষে তিনি বলেন, বিজেপি যদি রাজনৈতিক স্বার্থে ইডি-সিবিআই ব্যবহার করে, তা হতে পারে। কিন্তু এ দিন মুখ্যমন্ত্রীও রাজ্যের পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলেই তাঁর অভিযোগ।