কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাইরে ধর্না-বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। তবে সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি নেই—এই যুক্তিতে দিল্লি পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং তৃণমূল সাংসদদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 January 2026 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার কলকাতায় আইপ্যাকের (Ipac) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Prateek Jain) বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে ইডি অভিযানের (ED Raid) রেশ ছড়াল জাতীয় রাজনীতিতেও। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাইরে ধর্না-বিক্ষোভে (Protest) বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা (TMC MPs Protest)। তবে সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি নেই - এই যুক্তিতে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) হস্তক্ষেপ করে এবং তৃণমূল সাংসদদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। দিল্লি পুলিশের আচরণকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এরা ধর্ষকদের জামিন দেয়, আর প্রতিবাদীদের জেলে পুরে দেয়।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিষেক আরও লেখেন, “আজ গণতন্ত্রকে শাস্তি দিয়ে অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ভোট লুট করা হচ্ছে। এটাই বিজেপির নতুন ভারত।”
এখানেই থামেননি তৃণমূল নেতা। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) সামনে রেখে সরাসরি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। অভিষেকের দাবি, “বিজেপির চাপে গোটা দেশ আত্মসমর্পণ করলেও বাংলা করবে না। বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে বিজেপির সব দাঁত আর নখ ভেঙে দেব। দেখি, কত ক্ষমতা লাগাতে পারে।”
Democracy is punished.
Criminals are rewarded.
Agencies are weaponised.
Elections are manipulated.
JAIL the PROTESTERS.
BAIL the RAPISTS.
This is BJP’s version of New India.
Even if the rest of the country is forced to surrender,
Bengal will resist.
We will fight you tooth… https://t.co/YH8oAxuUnn— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) January 9, 2026
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আইপ্যাক ও প্রতীক জৈনকে ঘিরে ইডি অভিযানের ঘটনায় যে চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, দিল্লিতে সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ সেই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলল। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা এবং বিরোধী কণ্ঠ দমনের অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে আরও আক্রমণাত্মক পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিল তৃণমূল।
বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রতিবাদে এদিন দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah Office Protest) অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তৃণমূলের সাংসদরা। ছিলেন ডেরেক ও' ব্রায়েন, মহুয়া মিত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়রা। সেই সময়ই তাঁদের দিল্লি পুলিশ হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। বাসে তুলে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। সেখানে কিছু নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ মিটলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
যদিও দিল্লি পুলিশ জানায়, প্রথমে তৃণমূল সাংসদদের সেখান থেকে সরে যাওয়া জন্য অনুরোধ করা হলেও তাঁরা তাতে রাজি হননি। তারপরই বিক্ষোভ সরাতে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ।