বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েই কি থামবে ইডি? নাকি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনকে তলব করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED summon Pratik Jain)।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 8 January 2026 22:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েই কি থামবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)? নাকি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনকে তলব করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED summon Pratik Jain)- এই প্রশ্নেই বৃহস্পতিবার দিনভর উত্তেজনা ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে (West Bengal Politics)।
লক্ষ্মীবার সকালে কয়লাকাণ্ডের তদন্তে (Coal scam) ইডির দু’টি টিম একযোগে প্রতীক জৈনের বাড়ি (Pratik Jain house ED raid) ও সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে (I Pac Kolkata office ED raid) হানা দেয়। খবর ছড়াতেই প্রথমে সেখানে পৌঁছন কলকাতার নগরপাল মনোজ ভার্মা (Kolkata Police Commissioner Manoj Verma)। তার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কোনও দেহরক্ষী ছাড়াই তিনি প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। প্রায় ২০ মিনিট পর হাতে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে দলের রণকৌশল থেকে প্রার্থী তালিকা—সবই রয়েছে। ইডি সেগুলোই নিতে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে না পেরে এখন দলের রোডম্যাপ ‘চুরি’ করছে বিজেপি (BJP)।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেন সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে (I Pac Kolkata office CM)। সেখানে কিছুক্ষণের মধ্যেই উপস্থিত হন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। পার্কিং লটে গাড়ি রেখে তিনিও অফিসে ঢোকেন। ওই সময় এক সিভিল পোশাকের পুলিশকর্মীকে একাধিক ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। কীসের এত নথি—তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। অফিস থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের হার্ডডিস্ক থেকে নথি সব চুরি করা হয়েছে। আমরাও যদি বিজেপির অফিসে হানা দিই, তা হলে কি ঠিক হবে?”
এর মধ্যেই আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছন প্রতীক (I Pac Pratik Jain)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। প্রতীক ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে সন্ধ্যার পর ইডি অফিস ছাড়ে। তদন্তকারী আধিকারিকেরা বেরোনোর কিছুক্ষণ পর প্রতীক জৈনও সল্টলেকের অফিস ত্যাগ করেন।
এখন বড় প্রশ্ন—এই তল্লাশিতেই কি তদন্ত থামবে? নাকি ইডি প্রতীক জৈনকে তলব করতে পারে? রাজ্য রাজনীতিতে এ প্রশ্ন উঠতেই ফিরে আসছে পুরনো স্মৃতি। ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, সারদা মামলায় সিবিআই হানা দিয়েছিল তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে। সেদিনও কেন্দ্রীয় সংস্থা, সেদিনও মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে পৌঁছনো, আর তার পর ধর্মতলায় ধর্না—সবই ইতিহাস।
পরে আদালতের নির্দেশে রাজীব কুমারকে তলব করেছিল সিবিআই। শিলংয়ে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন রাজীব। সেই নজির টেনেই অনেকে মনে করছেন, আইপ্যাকের অফিসে হানা দিয়েই ইডি ক্ষান্ত নাও থাকতে পারে। তদন্তের স্বার্থে প্রতীক জৈনকে ডেকে পাঠানো হতে পারে।
এদিন ইডি সূত্রে সেই ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্খা সূত্রে বলা হচ্ছে, কয়লা কাণ্ডে বেআইনি লেনদেনের শিকড় খুঁজতে গিয়েই আই প্যাক ও প্রতীকের যোগসূত্রের অভিযোগ পাওয়া যায়। তদন্ত অসম্পূর্ণ রয়েছে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশ তাতে বাধা দিয়েছে। তাই প্রতীককে এমনকি আই প্যাকের অন্য এক দুজন কর্মীকেও জেরার জন্য ডাকা হতে পারে।
আই প্যাক তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় এখন শিরদাঁড়ার মতই হয়ে গেছে। ফলে এ ধরনের ডাকাডাকিতে এই পেশাদার সংস্থা কতটা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারবে এখন তা নিয়েই অনেকের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।