এবার ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’ বসানোর কৌশল নিয়েছে শাসকদল। রাজ্যের ২৯১টি কেন্দ্রে এই স্তম্ভ স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রতিটি এলাকার জন্য প্রার্থীর ১০টি সুনির্দিষ্ট প্রতিজ্ঞা খোদাই করা থাকবে।

তৃণমূলের প্রতিজ্ঞাস্তম্ভ
শেষ আপডেট: 11 April 2026 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রচারে অভিনবত্ব আনতে তৃণমূলের (TMC) জুড়ি মেলা ভার। একুশের জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’র (Khela Hobe) ধারা বজায় রেখে আগেই উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই নজর কেড়েছে ঘাসফুলের রাজনৈতিক ‘সাপ-লুডো’। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য আলাদা স্থানীয় ইস্তাহার, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’ (Pratigya Stambha)।
কলকাতায় এসে মমতার সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালকে বিঁধে ১৫ দফার চার্জশিট প্রকাশ করেছিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। পরে জেলাস্তরেও তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে চার্জশিট এনেছিল বিজেপি। সেই আক্রমণের পাল্টা দিতে এবার ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’ বসানোর কৌশল নিয়েছে শাসকদল। রাজ্যের ২৯১টি কেন্দ্রে এই স্তম্ভ স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রতিটি এলাকার জন্য প্রার্থীর ১০টি সুনির্দিষ্ট প্রতিজ্ঞা খোদাই করা থাকবে। স্থানীয় সেতু, রাস্তা বা পানীয় জলের মতো চাহিদাই সেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে।
কেন এই স্তম্ভ?
তৃণমূল নেতাদের দাবি, দেশে এই প্রথম কোনও দল স্থানীয় ভোটারদের চাহিদা বুঝে প্রকাশ্য স্থানে এভাবে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। প্যামফ্লেটের প্রতিশ্রুতি মানুষ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু স্তম্ভের গায়ে লেখা সেই ‘প্রতিজ্ঞা’ ভোট মেটার পরও সাক্ষী হয়ে থাকবে। স্থানীয়দের বিশ্বাস জোগাতেই এই পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে প্রথম দফার আসনগুলিতে এই স্তম্ভ বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
দলের মূল ইস্তাহারে সপ্তম পে কমিশন থেকে ডিএ মেটানো বা দুয়ারে চিকিৎসার মতো ১০টি ‘রাজ্যস্তরের প্রতিজ্ঞা’ আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই বড় মাপের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে স্থানীয় স্তরের অভাব-অভিযোগ মেটানোর অঙ্গীকার যোগ করে এক জোরালো প্রচারের নকশা তৈরি করেছে তৃণমূল।
এর আগে, বিজেপির কাজ-বাজকে ব্যাঙ্গ করে তৃণমূল সাপ-লুডো বোর্ড তৈরি করেছিল। যেখানে ‘সিঁড়ি’ হিসেবে জায়গা পায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা সবুজ সাথীর ওপর দিয়ে অনায়াসেই লক্ষ্যে পৌঁছনো যাবে। অন্য দিকে, ‘সাপ’ হিসেবে হাজির করা হয় বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকারের নেতা ও তাঁদের বিভিন্ন পদক্ষেপকে। তৃণমূলের ব্যাখ্যা, সিঁড়ি দিয়ে মানুষ উঠছে উন্নয়নের শিখরে, আর জনবিরোধী নীতি বা বঞ্চনার ‘সাপ’ সেই অগ্রগতিতে বাধা দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের এই শৈল্পিক লড়াই আদতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা। সাপ-লুডোর চাল বা স্তম্ভের লেখা প্রতিজ্ঞা— এই সমস্ত কিছু ইভিএমে কতটা ভোট টানে, সেটাই এখন দেখার।