বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে দাবি করা হয়, মুসলিম ভোটকে প্রভাবিত করতে বিজেপির সঙ্গে এক হাজার কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন। ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই মিম ঘোষণা করে যে, তারা হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট ছিন্ন করছে।

আসাউদ্দিন ওয়েইসি এবং হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 11 April 2026 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে বাংলায় এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ১৯ মিনিটের একটি বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যখন টালমাটাল, ঠিক তখনই আসাউদ্দিন ওয়েইসির (Asauddin Owaisi) দল মিম-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো। জোট ভাঙার জন্য মিম নেতাদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। হুমায়ুনের পাল্টা দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে মিমের বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং সেই কারণেই পরিকল্পনা করে এই জোট ভাঙা হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে দাবি করা হয়, মুসলিম ভোটকে প্রভাবিত করতে বিজেপির সঙ্গে এক হাজার কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন। ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই মিম ঘোষণা করে যে, তারা হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট ছিন্ন করছে। এই প্রেক্ষিতেই মুখ খুলেছেন বিতর্কিত এই নেতা।
তাঁর অভিযোগ, মিমের পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি এবং মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখের সঙ্গে তৃণমূলের ২০ কোটি টাকার রফা হয়েছে। হুমায়ুনের দাবি, “জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান এবং তৃণমূলের এক প্রতিনিধির সঙ্গে এই ডিল হয়েছে। ইতিমধ্যেই মিম নেতারা ২ কোটি টাকা আগাম পেয়ে গিয়েছেন।”
হুমায়ুন কবীর প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন যে, ওই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল বানিয়েছে। এ দিন তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, মিম নেতারা ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না করেই তৃণমূলের কাছ থেকে টাকা খেয়ে আসাউদ্দিন ওয়েইসিকে ভুল বুঝিয়ে জোট ভেঙে দিয়েছেন। এর প্রতিকারে তিনি আদালতেও যাবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর সাফ চ্যালেঞ্জ, “বিজেপির থেকে এক হাজার কোটি তো দূরের কথা, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি এক কোটি টাকাও নিয়েছি, তবে আমি সব দায় মাথা পেতে নেব।”
মজার বিষয় হল, হুমায়ুনের এই ‘এআই’ ভিডিওর তত্ত্বকে শুক্রবার কলকাতায় দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার নরেন্দ্র মোদীও তাঁর জনসভা থেকে নাম না করে এই ধরণের ভিডিওর মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ ভিডিও বিতর্কে যেন অদ্ভুত এক সমাপতন তৈরি হয়েছে বিজেপি এবং হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যে।
যদিও হুমায়ুনের এই ঘুষের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে মিম। দলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “হুমায়ুন কবীরের মাথা ঠিক নেই। ভিডিওটি যে ভুয়ো, তা আগে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে। যত দিন না তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করছেন, মিম তাঁর পাশে দাঁড়াবে না।”
তৃণমূলের দাবি ছিল, মুসলিম ভোট কাটতেই বিজেপি এবং হুমায়ুনের মধ্যে কয়েকশো কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন হুমায়ুনের পাল্টা ২০ কোটির ‘ডিল’-এর অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে শাসক দলের ‘আঁতাঁত’ তত্ত্ব আর অন্যদিকে হুমায়ুনের ‘তৃণমূল-মিম গোপন বোঝাপড়া’— এই দুইয়ের লড়াইয়ে মুর্শিদাবাদ তথা বাংলার মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে হেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।