তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতা আসলে হুমায়ুন কবীরকে রাজনৈতিকভাবে আড়াল করার চেষ্টা। বিজেপি ও হুমায়ুনের মধ্যে যে গোপন সমঝোতা রয়েছে, তা মোদীর কথাতেই সিলমোহর পেল।

শেষ আপডেট: 11 April 2026 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রাজনীতিতে শনিবার যেন এক হাই-ভোল্টেজ থ্রিলার মঞ্চস্থ হলো। একদিকে জঙ্গিপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) এআই (AI) বা ভুয়ো ভিডিও নিয়ে রাজ্যবাসীকে সতর্কবার্তা, আর তার ঠিক পরেই তৃণমূলের (TMC) পাল্টা আক্রমণ। তৃণমূলের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) ভাইরাল ভিডিও-র অস্বস্তি কাটাতে এবং তাঁকে বাঁচাতেই প্রধানমন্ত্রী এআই-এর অজুহাত খাড়া করেছেন (West bengal Assembly election 2026)।
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে লিখেছে—“একটি বিস্ফোরক ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে ক্যামেরার সামনে দাবি করতে দেখা গেছে যে, বিজেপি তাঁকে ১০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মোহন যাদব এবং খোদ পিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে হুমায়ুন মরিয়া হয়ে এটিকে এআই-নির্মিত বলে দাবি করছেন। আর আজ স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী ভুয়ো ভিডিওর কথা বলে হুমায়ুনকে সমর্থন জানালেন।”
তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতা আসলে হুমায়ুন কবীরকে রাজনৈতিকভাবে আড়াল করার চেষ্টা। বিজেপি ও হুমায়ুনের মধ্যে যে গোপন সমঝোতা রয়েছে, তা মোদীর কথাতেই সিলমোহর পেল।
গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে হুমায়ুনের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে উত্তাল মুর্শিদাবাদ। ভিডিওটিতে হুমায়ুনকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ‘সেটিং’ ও বিপুল টাকার লেনদেন নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘দ্য ওয়াল’)। হুমায়ুন শুরু থেকেই একে এআই-এর কারসাজি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
শনিবার জঙ্গিপুরের সভা থেকে মোদী হুমায়ুনের নাম মুখে না আনলেও অসম ও পন্ডিচেরির উদাহরণ টেনে এআই বা ডিপফেক নিয়ে সতর্ক করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি অত্যন্ত সুচিন্তিত কৌশল। মোদী সরাসরি হুমায়ুনকে সমর্থন না করেও ভোটারদের মনে এই সন্দেহ ঢুকিয়ে দিতে চাইলেন যে— ভাইরাল ভিডিওটি সত্যিই কি আসল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো চক্রান্ত রয়েছে?
শুক্রবারই অমিত শাহ (Amit Shah) সাফ জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ২০ বছর বিরোধী আসনে থাকবে বিজেপি, তাও হুমায়ুনের হাত ধরবে না। অন্যদিকে হুমায়ুন নিজেও শুভেন্দু অধিকারীদের আক্রমণ করে চলেছেন। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে হুমায়ুনের দলে ভাঙন শুরু হয়েছে, মিম-ও জোট ভেঙে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ‘এআই-অস্ত্র’ কি হুমায়ুনকে অক্সিজেন দিতে পারবে? না কি তৃণমূলের এই পাল্টা ট্যুইট বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে গেরুয়া শিবিরের জন্য— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।