জনজাতিদের প্রতি মোদী সরকারের দরদ বোঝাতে শাহ এ দিন বলেন, “মমতা বা কংগ্রেস— কেউ জনজাতির কাউকে রাষ্ট্রপতি করেনি। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর মোদীজি সাঁওতাল বোন দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করে তাঁদের সম্মান জানিয়েছেন।”

দ্রৌপদী মুর্মু ও অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 11 April 2026 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) ১২ দিন আগে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে ‘রাষ্ট্রপতির অপমান’ ইস্যুকেই তুরুপের তাস করলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার বাঁকুড়ার ছাতনায় জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানালেন, এক জন জনজাতি কন্যা দেশের সর্বোচ্চ পদে বসুক, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মেনে নিতে পারছেন না। এক মাস আগের স্মৃতি উসকে শাহের হুঙ্কার, “এই ভোটে জনজাতির মেয়ে দ্রৌপদীর (Draupadi Murmu) অপমানের বদলা নিতে হবে।”
জনজাতিদের প্রতি মোদী সরকারের দরদ বোঝাতে শাহ এ দিন বলেন, “মমতা বা কংগ্রেস— কেউ জনজাতির কাউকে রাষ্ট্রপতি করেনি। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর মোদীজি সাঁওতাল বোন দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করে তাঁদের সম্মান জানিয়েছেন।” তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি যখন জনজাতি ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করতে বাংলায় এসেছিলেন, তখন মমতাদিদি তাঁকে পদে পদে অপমান করেছেন। শাহের কথায়, “উনি সহ্য করতে পারেন না যে এক জন গরিব ঘরের জনজাতি কন্যা দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।”
বিতর্কের মূলে রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফর। আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে অংশ নিতে এসে দ্রৌপদী মুর্মু প্রশাসনের অসহযোগিতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। মঞ্চ থেকেই তিনি বলেছিলেন, “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। ওরা বলেছিল অনুষ্ঠান করার জায়গা নেই, অথচ এখানে তো ৫ লক্ষ লোক ধরে যায়!” এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে আক্ষেপের সুরে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। জানি না আমার ওপর কী রাগ, আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না।”
সে দিন আদিবাসীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। যার পাল্টা জবাবে সন্ধেয় মমতা বলেছিলেন, “ম্যাডাম আমি দুঃখিত। মনে হচ্ছে আপনি বিজেপির ফাঁদে পড়েছেন। বিজেপির পরামর্শে ভোটের সময় রাজনীতি করবেন না।”
মাঝে এক মাস কেটে গেলেও সেই ক্ষত যে এখনও টাটকা, তা এ দিন শাহের আক্রমণেই স্পষ্ট। জনজাতিদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহ বলেন, “আপনি যা-ই করুন মমতাদিদি, আমরা জনজাতিদের উন্নয়ন করবই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, আদিবাসী প্রধান জেলাগুলিতে রাষ্ট্রপতির ভাবমূর্তি অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁকে প্রশাসনিক বাধা দেওয়া বা ‘বিজেপির ফাঁদ’ বলে কটাক্ষ করাকে জনজাতিদের ওপর আঘাত হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে গেরুয়া শিবির।