শুক্রবার ডেবরায় নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য দায়ী একমাত্র তৃণমূলের অপশাসন। এমনকী রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র এক বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

অমিত শাহ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 April 2026 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও (West Bengal Assembly Election 2026) মেদিনীপুরের রাজনীতির অন্যতম ভরকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই বহুচর্চিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ (Ghatal Master Plan)। দশকের পর দশক ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির চাপানউতোর এবার চরমে পৌঁছেছে। শাসক দল যখন কেন্দ্রের বঞ্চনাকে অস্ত্র করে প্রচারে নেমেছে, ঠিক তখনই পাল্টা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
শুক্রবার ডেবরায় নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য দায়ী একমাত্র তৃণমূলের অপশাসন। এমনকী রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র এক বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার চূড়ান্ত অসহযোগিতা করেছে। ২০১৪ সালে এই প্রকল্পের জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব পাঠানো হলেও দিল্লি তাতে কর্ণপাত করেনি বলেই দাবি তাঁর। সম্প্রতি সিঙ্গুর থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যের নিজের তহবিল থেকেই এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তবে শুক্রবার ডেবরার সভায় অমিত শাহ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “নরেন্দ্র মোদীজি এই প্রকল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন। ৬০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে আক্ষরিক অর্থে জঞ্জালে পরিণত করেছে।” এরপরই ভিড়ে ঠাসা ময়দান থেকে তাঁর আশ্বাস, “আপনারা রাজ্যে বিজেপির সরকার আনুন, আমি কথা দিচ্ছি মাত্র এক বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে এই অঞ্চলের নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেব।”
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে কেন্দ্র করে রাজনীতির ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরনো। বাম জমানায় এই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হলেও তা খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এই দাবি আরও জোরালো হয়। গত লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ঘাটালের বিদায়ী সাংসদ তথা অভিনেতা দেব এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন। এমনকি যথাযথ প্রতিশ্রুতি না পেলে তিনি আর ভোট ময়দানে নামবেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসে তিনি প্রার্থী হতে রাজি হন। সে সময় মমতা ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্যই তা করে দেখাবে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর সেই কাজের তৎপরতাও বেড়েছে।
শুক্রবারই এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক থেকে অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পর্কে উনি জানেন না। রাজ্য টাকা দিয়েছে। সেটা জানতে হবে। খবর রাখে না কেন্দ্রীয় সরকার। আমি দেবের প্রচারে গিয়ে বলেছিলাম, কেন্দ্র না দিলে আমরা করব। অমিত শাহ সেটা জানেন না।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মেদিনীপুরের মানুষের আবেগ এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি জড়িয়ে রয়েছে এই মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে। একদিকে রাজ্য সরকারের নিজস্ব অর্থে কাজ করার দাবি, অন্যদিকে শাহের ‘এক বছরে সমাপ্তি’র প্রতিশ্রুতি - এই দুইয়ের লড়াইয়ে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রসঙ্গত, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭টি ব্লক - ঘাটাল, দাসপুর ১ ও ২, চন্দ্রকোনা ১ ও ২, কেশপুর ও ডেবরা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক - পাঁশকুড়া ১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক, পাশাপাশি ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভার মানুষ উপকৃত হবেন। মোট প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বন্যা ও জলযন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করে।