একদিকে যখন শাসক দলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে রাজ্যে জোর চর্চা, ঠিক তখনই পালটা চাল দিল গেরুয়া শিবির। শাহ ঘোষণা করলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
.jpeg.webp)
অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 10 April 2026 22:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলায় বড় বাজি ধরল বিজেপি (West Bengal Assembly Election 2026)। শুক্রবার কলকাতায় দলের নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্প পত্র’ প্রকাশ করে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। একদিকে যখন শাসক দলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে রাজ্যে জোর চর্চা, ঠিক তখনই পালটা চাল দিল গেরুয়া শিবির। শাহ ঘোষণা করলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
এদিন ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “বাংলার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব মহিলাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁদের ক্ষমতায়নের বদলে কেবল রাজনীতির বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।” এই পরিস্থিতি বদলাতেই বিজেপির বড় প্রতিশ্রুতি — মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৩,০০০ টাকা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবেই এই অংকের ঘোষণা করল বিজেপি।
কেবল মহিলারাই নন, বিজেপির ইস্তাহারে বড় চমক রয়েছে যুব সমাজের জন্যও। বাংলায় কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই অমিত শাহ জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ‘বেকার ভাতা’ দেওয়া হবে। শাহের কথায়, “বাংলার মেধাবী যুবকরা কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে শিল্পায়নের পাশাপাশি এই যুবকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।”
এদিনের সঙ্কল্প পত্রে কেবল ভাতাই নয়, গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ওপর। পাশাপাশি, যুবদের স্বস্তি দিয়ে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাঁরা দুর্নীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের ৫ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। বিজেপি-র ইস্তেহারে আরও বলা হয়েছে, যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে। রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি, মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনা শুল্ক পরিবহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
বিজেপির এই ১৫ দফা ঘোষণা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, এখন সেটাই দেখার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে এই মেগা স্কিমগুলো কি ঘাসফুল শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারবে? উত্তর মিলবে ভোটবাক্সে।