গোসাবায় শুক্রবার যেন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পরিস্থিতি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, তাদের একটি ঘরোয়া বৈঠক চলাকালীন অতর্কিতে ঢুকে তাণ্ডব চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে খবর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 April 2026 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ এখনও কিছুদিন বাকি, তার আগে ফের সেই উত্তেজনার চেনা ছবি। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার গোসাবা থেকে শুরু করে বাঁকুড়া - সর্বত্রই যেন অশান্তির আগুন। একদিকে গোসাবায় বিজেপি কর্মীদের উপর বর্বরোচিত হামলার (BJP Workers Attacked) অভিযোগ উঠল শাসক দলের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে বাঁকুড়ায় খোদ বিজেপি নেতার সন্তানকে ডেকে তার বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটমুখী বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন চড়া।
গোসাবায় শুক্রবার যেন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পরিস্থিতি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, তাদের একটি ঘরোয়া বৈঠক চলাকালীন অতর্কিতে ঢুকে তাণ্ডব চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে খবর। হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে। বিজেপি প্রার্থীর সাফ হুঁশিয়ারি, অভিযুক্তদের যদি অবিলম্বে পুলিশ গ্রেফতার না করে, তবে আগামী দিনে থানা ঘেরাও করে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে পদ্ম শিবির।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঙাবেলিয়া অঞ্চলে বিজেপি কর্মীরা যখন নিজেদের মধ্যে একটি সাংগঠনিক আলোচনা সারছিলেন, তখনই বৃহস্পতিবার রাতে নেমে আসে অতর্কিত আক্রমণ। অভিযোগ, স্থানীয় উপপ্রধান মোসলেম মোল্লার নেতৃত্বে প্রায় জনা পঞ্চাশের একটি সশস্ত্র দল চড়াও হয় ওই বৈঠকে। লাঠি এবং রড ছাড়াও তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করছেন আক্রান্তরা। আক্রান্ত কর্মীদের কারও কাঁধে, কারও মুখে বা বুকে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের গলা টিপে ধরে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিপদ শুধু দক্ষিণেই নয়, বাঁকুড়াতেও অশান্তির ছায়া। কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জিবটা গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, সেখানে বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতির সন্তানকে একা পেয়ে জনৈক যুবক তার বাবার নাম ধরে খুনের হুমকি দেয়। ওই নাবালককে জানানো হয় যে তার বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। অভিযুক্ত ওই যুবককে আটকে রেখে তারা জবাবদিহি চান।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই হিংসার খবরগুলি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হচ্ছে। পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও। তবে ভোটের আগে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংঘাত রুখতে ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।