শাহের মন্তব্যে কার্যত হুমায়ুনের সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হল, যেখানে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

অমিত শাহ এবং হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 10 April 2026 22:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই যেন নতুন নতুন নাটকীয় মোড় নিচ্ছে বাংলার রাজনীতি। এই মুহূর্তে সেই নাটকের কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছিল, বিজেপির সঙ্গে নাকি হাজার কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন (Humayun Kabir Viral Video)। শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশের মঞ্চ (BJP Sankalpa Patra) থেকে সেই অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সাফ জানালেন, আদর্শগতভাবে হুমায়ুন আর বিজেপি হল উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছিল? তৃণমূলের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, হুমায়ুন কবীর জনৈক ব্যক্তিকে বলছেন যে, রাজ্যের মুসলিম ভোট বিজেপির দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি এক হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন। এমনকী, ৩০০ কোটি টাকা নাকি আগামও নিয়ে নিয়েছেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। শুক্রবার কলকাতায় শাহকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কড়া মেজাজে জবাব দেন। শাহের কথায়, “বিরোধীদের আসনে কুড়ি বছর বসে থাকতে রাজি আছি, কিন্তু তবুও এই ধরণের মানুষের সঙ্গে হাত মেলাবে না বিজেপি।”
এ দিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা জানেন না। উনি চাইলে এমন একটা নয়, দু-হাজার ভিডিও বানিয়ে দিতে পারেন।” শাহের এই মন্তব্যে কার্যত হুমায়ুনের সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হল, যেখানে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শাহের মতে, বিজেপির মতো একটি আদর্শবাদী দল কখনওই এই ধরণের মানুষকে নিয়ে রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
তবে এই ভিডিও বিতর্কের জেরে রাজনৈতিকভাবে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়লেন হুমায়ুন কবীর। বাংলায় আসাউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-এর সঙ্গে তাঁর দলের জোট হওয়ার ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু এই ভিডিও বিতর্ক সামনে আসতেই সেই জোট ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মিম। শুক্রবার সকালে তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসলিম সমাজের মর্যাদা এবং সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে - এমন কোনও ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে তারা সম্পর্ক রাখবে না। ভিডিওতে হুমায়ুনের বক্তব্যে রাজ্যের মুসলিমদের অসহায়তা ফুটে উঠেছে বলেও মিম দাবি করেছে।
মিম-এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত এবং দরিদ্র অবস্থায় রয়েছেন। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি তাঁদের অবস্থার কোনও উন্নতি করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট থেকে সরে এসে এবার বাংলায় একাই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিম। এমনকী, ভবিষ্যতে অন্য কোনও দলের সঙ্গেও তারা জোট করবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে শাহের মন্তব্য আর ভিডিও বিতর্ক - এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে এখন রীতিমতো কোণঠাসা বিতর্কিত নেতা হুমায়ুন কবীর।