প্রধানমন্ত্রী এদিন হুমায়ুন কবীরের নাম সরাসরি মুখে না আনলেও ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষাপটে মানুষের সচেতনতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, তৃণমূল এবার নিশ্চিত হার দেখতে পারে। এই সময়ে যড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 11 April 2026 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাল ভিডিও কাণ্ডে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) কেন্দ্র করে যখন আলোড়ন পড়ে গেছে, তখন শনিবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের সভা থেকে তাৎপর্যপূর্ণ কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল এখন চারিদিকে পরাজয়ের ছায়া দেখতে পাচ্ছে। আর সেই কারণেই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার বা ‘ডিপফেক’ ভিডিও-র ষড়যন্ত্র শুরু হতে পারে।
এআই-ষড়যন্ত্রের মেঘ দেখছেন মোদী
প্রধানমন্ত্রী এদিন হুমায়ুন কবীরের নাম সরাসরি মুখে না আনলেও ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষাপটে মানুষের সচেতনতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, তৃণমূল এবার নিশ্চিত হার দেখতে পারে। এই সময়ে যড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন সব ভুয়ো ভিডিও বাজারে ছাড়া হতে পারে যা দেখে আসল-নকল চেনা দায়। অসম ও পন্ডিচেরির নির্বাচনেও এই ধরনের জালিয়াতি আমরা দেখেছি। বাংলাতেও সেই একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সমাজমাধ্যমে ট্রেন্ডিং হুমায়ুন কবীর। তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে এই সংখ্যালঘু নেতা দাবি করছেন, বিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে তাঁর সেটিং হয়ে গেছে। সেই ভিডিও অবশ্য দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। তবে হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।
তৃণমূল ছেড়ে হুমায়ুন আলাদা দল গড়েছেন। তাতে মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজেপিও সেটাই চায়। কারণ সেই অবস্থায় হিন্দু ভোটের মেরুকরণের ফলে বিজেপির লাভ হতে পারে। এহেন পরিস্থিতিতে হুমায়ুনের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল তৃণমূল। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হুমায়ুনের নাম মুখে না এনেও মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়েই এআই ফেক ভিডিও নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এটা স্রেফ কৌশলগত। মোদী হুমায়ুনের নাম মুখে আনেননি ঠিকই। কিন্তু এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও-র কথা বলে মুর্শিদাবাদের ভোটারদের মনে সন্দেহ তৈরি করে দিতে চাইলেন—হুমায়ুনের ভিডিওটা সত্যিই তো নাকি ভুয়ো।
হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপি সরাসরি নিজেদের কোনওভাবেই যে জড়াতে চায় না তা অমিত শাহ শুক্রবারই বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, দরকার হলে আরও বিশ বছর বিজেপি বাংলায় বিরোধী আসনে থাকবে, কিন্তু হুমায়ুনের হাত ধরবে না। আবার হুমায়ুনও বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। তবে হুমায়ুনের একটি সমস্যা হয়েছে। এক, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মিম তাঁর সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়েছে। এবং দুই তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা পদত্যাগ করেছেন। এখন দেখার প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতা হুমায়ুনের ভিডিও বিতর্ককে আদৌ লঘু করে দিতে পারে কিনা।