ইস্তফাপত্রে দলের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা উল্লেখ করেছেন বিদায়ী সভাপতি। তাঁর কার্যকালে দলের সদস্য ও সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা এবং সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 10 April 2026 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের মুখেই ভাঙন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-তে। শুক্রবার দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি খোবায়েব আমিন ()। কোনও রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্তব্যের তাগিদেই তাঁর এই সরে দাঁড়ানো বলে জানিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে খোবায়েব আমিন জানিয়েছেন, একজন ‘পীরজাদা’ এবং একটি ফাউন্ডেশনের সম্পাদক হিসেবে সমাজের প্রতি তাঁর বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা রয়েছে। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি অনুভব করেছেন যে, সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে থাকার ফলে তাঁর সেই সব গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিজের জীবন এবং কাজের গতিপথ বিচার করেই তিনি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইস্তফাপত্রে দলের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা উল্লেখ করেছেন বিদায়ী সভাপতি। তাঁর কার্যকালে দলের সদস্য ও সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা এবং সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। খোবায়েব আমিনের কথায়, “দলের সভাপতি হিসেবে কাজ করা আমার কাছে সম্মানের বিষয় ছিল। আমি আমার সকল সহকর্মী ও কমরেডদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ছোট বড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই যখন ঘর গুছিয়ে ময়দানে নামার তোড়জোড় করছে, তখন খোবায়েব আমিনের মতো একজন নেতার হঠাৎ সভাপতি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র অন্দরে কিছুটা শোরগোল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর ইস্তফার ফলে ভোটের আগে দলে নতুন মুখ কে আসবে এবং সংগঠনের চালিকাশক্তি কোন পথে যাবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
অনেকেই বলাবলি করছেন, হুমায়ুন কবীরের ‘গোপন কথা’ ফাঁস হওয়ার কারণেই আমিন হয়তো ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। এই একই কারণে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-ও জোট ভেঙেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) একক ভাবেই লড়াই করবে। শুক্রবার ভোরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই ঘোষণা করা হয়েছে। পরে পোস্টটি শেয়ার করেন ওয়েইসি নিজেও।
যদিও নকল ভিডিও বাজারে ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন হুমায়ুন। নারদকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শুক্রবার তিনি বলেন, “ববি (ফিরহাদ) হাকিম, সৌগত রায়দের টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ওই স্টিংকাণ্ডের কী সুরাহা হল?”
বৃহস্পতিবার বেলায় কলকাতায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুনের ‘গোপন কথা’ ফাঁস করেছিল তৃণমূল। ভিডিয়োটিতে তারিখ উল্লেখ রয়েছে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর। ১৯ মিনিটের ওই ভিডিয়োয় বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের ‘গোপন আঁতাঁত’-এর কথা উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূলের ‘ফাঁস’ করা ওই ভিডিয়োয় ১০০০ কোটি টাকা চাইতে দেখা যাচ্ছে হুমায়ুনকে। তার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দাবি করছেন তিনি (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল)।