প্রতিনিধি দল দেশে ফিরলেই সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য আগেই দাবি জানিয়েছিল তৃণমূল। এবার এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিলেন তৃণমূলের মহিলানেত্রী তথা বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার
শেষ আপডেট: 28 May 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের 'মুখোশ' খুলে দিতে এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রচারের জন্য ভারত থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছে সংসদীয় প্রতিনিধি দল। সেই দলে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)। ওই প্রতিনিধি দল দেশে ফিরলেই সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য আগেই দাবি জানিয়েছিল তৃণমূল। এবার এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিলেন তৃণমূলের মহিলানেত্রী তথা বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)।
সন্ত্রাস মোকাবিলায় কেন্দ্রের পদক্ষেপকে তৃণমূল যে পূর্ণ সমর্থন করবে তা আগেই জানিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে কাকলি বলেন, "সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আছি। তবে পহেলগাম হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের কেন এখনও ধরা যায়নি। কেন ইন্টেলিজেন্স থাকবে না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পরিকাঠামো কেমন?"
কাকলি আরও বলেন, "ভারতের সংবিধান ও সংসদীয় গণতন্ত্রের নীতি মেনে দেশের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় বিশদে জানার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকটা দেশবাসীর। সেজন্যই আমরা চাইছি প্রতিনিধি দল ফিরে এলেই দ্রুত বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।"
বস্তুত, জুলাইয়ে সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশন হওয়ার কথা। তবে জুনেই যাতে এ ব্যাপারে বিশেষ অধিবেশন (Special Parliament Session) ডাকা হয় এ নিয়ে মঙ্গলবার সংসদের সেন্ট্রাল হলে একটি বৈঠক করেন তৃণমূলের রাজ্যসভা ও লোকসভার সাংসদরা। এরপরই বিশেষ অধিবেশন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।
এ ব্যাপারে অতীতের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে সাংসদ বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনা করেছিলেন। ২০০১ সালে সংসদে হামলার পরও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি বিশেষ অধিবেশন ডেকে সেখানে আলোচনা করেছিলেন। সকলের মতামত নিয়েছিলেন। এবারেও আমরা বিশেষ অধিবেশনের দাবি জানাচ্ছি।'
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে (Pahalgam Terror Attack) জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ২৬ জন নিরীহ মানুষের। ১৫ দিন পরও পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করায় গত ৭ মে গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে 'অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেনার নিখুঁত অভিযানে পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মৃত্যু হয় শতাধিক জঙ্গির।