বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকার উত্তরবঙ্গকে অবহেলা করে আসছে - বিজেপির এই চেনা অভিযোগের সুর এদিন মোদীর গলায় আরও চড়া ছিল। শিলিগুড়ির সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রেখেছে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 12 April 2026 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্য ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। ভোটের দামামা বাজতেই বাংলায় লাগাতার প্রচার চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শনিবার পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ঝোড়ো প্রচার সেরে রবিবার উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়িতে সভা করলেন তিনি। আর সেখান থেকেই উত্তরবঙ্গের প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে নজিরবিহীনভাবে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী। সরাসরি নাম না নিলেও কলকাতার দুর্গাপুজোর কার্নিভাল (Durga Puja Carnival) এবং নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকার উত্তরবঙ্গকে অবহেলা করে আসছে - বিজেপির এই চেনা অভিযোগের সুর এদিন মোদীর গলায় আরও চড়া ছিল। শিলিগুড়ির সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “তৃণমূল উত্তরবঙ্গ বিরোধী। এরা এখানে কাজ করেনি এবং কেন্দ্রকেও কাজ করতে দেয়নি। উন্নয়নের জন্য পাঠানো কেন্দ্রীয় অর্থ এরা নয়ছয় করেছে বা ব্যবহারই করেনি।”
কার্নিভাল কটাক্ষ
বাজেট বরাদ্দ নিয়ে তৃণমূলের ‘তুষ্টিকরণ’ নীতিকেও এদিন তুলোধনা করেন নরেন্দ্র মোদী। কলকাতার পুজো কার্নিভালকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যখন এখানে প্রবল বৃষ্টিতে হাহাকার চলছিল, মানুষ সমস্যায় জর্জরিত ছিল, তখন তৃণমূল সরকার কলকাতায় উৎসব পালন করছিল।” বাজেটের বৈষম্য তুলে ধরে মোদী আরও বলেন, “এই সরকার মাদ্রাসার জন্য ৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করেনি। নিজেদের বিশেষ ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতেই ওরা বেশি ব্যস্ত।”
রাজ্যের শাসক দলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, পরিবর্তনের সময় এসে গিয়েছে। তাঁর আশ্বাস, “৪ মে-র পর বাংলায় নতুন সরকার আসবে এবং সব ছবি বদলে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ আর অত্যাচার সহ্য করবে না। ভয় নয়, এবার ভরসা চাই - এটাই বিজেপির মন্ত্র।” উত্তরবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানে ক্যানসার হাসপাতাল, ফ্যাশন ইনস্টিটিউট এবং আইআইটি-র মতো বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
টুকরে টুকরে গ্যাং
এ দিনের সভায় ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এমন এক শক্তি রয়েছে যারা শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ কেটে দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশ থেকে আলাদা করার হুমকি দিয়েছিল। মোদীর তোপ, “তৃণমূল এই ধরণের দেশবিরোধী শক্তিকেই রাস্তা থেকে সংসদ পর্যন্ত সমর্থন জুগিয়ে আসে।”
সবশেষে বাংলার মানুষের কাছে ‘এক মওকা’ বা একটি সুযোগ চান মোদী। নারী সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসার অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলার সংস্কৃতিকে তুষ্টিকরণের রাজনীতি থেকে বাঁচাতে মোদীকে একবার সুযোগ দিন।” উত্তরবঙ্গের মানুষের আবেগকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ছাব্বিশের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।