বাঙালির দুই প্রধান ক্লাব ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের নাম নিয়ে তিনি আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ময়দানি প্রতিবাদের কথা মনে করিয়ে দেন। আরজি করের ঘটনার বিচার চেয়ে ডার্বি বাতিলের প্রতিবাদে দুই প্রধানের সমর্থকরা যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইএম বাইপাসে পুলিশের লাঠির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই আবেগকেই ভোটবাক্সে টানতে চাইলেন মোদী।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 11 April 2026 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) ময়দানে এবার রাজনীতির সঙ্গে মিশে গেল ফুটবলের আবেগ। শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুণ্ডির জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করতে গিয়ে বাঙালির চিরকালীন প্রিয় খেলা ফুটবলকে ঢাল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কয়েক মাস আগে কলকাতায় বিশ্বজয়ী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা এবং আরজি কর কাণ্ডে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান সমর্থকদের নজিরবিহীন ঐক্য (East Bengal Mohun Bagan RG Kar Protest) - এই দুই বিষয়কে হাতিয়ার করে শাসক দলকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, “তৃণমূল আজ ফুটবলকেও সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিয়েছে।”
কলকাতায় মেসির সফর ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তার পরিণতি যে এমন অপ্রীতিকর হবে, তা হয়তো কেউই ভাবেননি। ‘গোট ট্যুর’-এ কলকাতায় এসে যুবভারতীতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সাক্ষী হতে হয়েছিল আর্জেন্তাইন মহাতারকাকে। অভিযোগ উঠেছিল, তৃণমূলের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের ‘সেলফি’র দাপটে সাধারণ দর্শকরা টিকিটের দাম দিয়েও মেসির দেখা পাননি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ভাঙচুরও হয়। এ দিন কুশমুণ্ডির সভা থেকে সেই ঘায়েই নুন ছিটিয়ে মোদী বলেন, “কয়েক মাস আগে যুবভারতীতে কী হয়েছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ ফুটবলকেও বরবাদ করে দিচ্ছে।”
এখানেই থেমে থাকেননি প্রধানমন্ত্রী। বাঙালির দুই প্রধান ক্লাব ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের নাম নিয়ে তিনি আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ময়দানি প্রতিবাদের কথা মনে করিয়ে দেন। আরজি করের ঘটনার বিচার চেয়ে ডার্বি বাতিলের প্রতিবাদে দুই প্রধানের সমর্থকরা যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইএম বাইপাসে পুলিশের লাঠির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই আবেগকেই ভোটবাক্সে টানতে চাইলেন মোদী। তাঁর কথায়, “ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের লড়াই বিশ্ববিদিত। কিন্তু আরজি করের ঘটনার পর সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকরাই এক হয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। আমাদের এ ভাবেই একজোট হয়ে তৃণমূলকে সবক শেখাতে হবে।”
নারী সুরক্ষা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে এদিন আরও কড়া সুর ধরেন মোদী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলেই রাজ্যে যত ধর্ষণের মামলা হয়েছে, সেই সব ফাইল খোলা হবে। খুঁজে খুঁজে হিসেব নেওয়া হবে। এমন হিসেব হবে যা অপরাধীরা সাত জন্ম মনে রাখবে।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, সন্দেশখালি থেকে আরজি কর - একের পর এক ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে বর্তমান সরকারের জমানায় মা-বোনেরা নিরাপদ নন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার মধ্যবিত্ত এবং ফুটবলপ্রেমী বাঙালির ক্ষোভকে উস্কে দিতেই মোদী সুকৌশলে ফুটবল এবং সিন্ডিকেটের যোগসূত্র টেনেছেন। একদিকে মেসির মতো আন্তর্জাতিক তারকার সফরের অব্যবস্থা আর অন্যদিকে আরজি কর ইস্যুতে ময়দানের ঐক্য - এই দুই ইস্যুকে এক সুতোয় গেঁথে শহর এবং শহরতলির ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী। এখন দেখার, এই ‘ময়দানি দাওয়াই’ ছাব্বিশের ভোটের ময়দানে বিজেপিকে কটা গোল দিতে সাহায্য করে।