অর্জুন সিং-এর বক্তব্য, নেপালে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুবসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছে তা বড় উদাহরণ রাখে। বাংলায় এমনই গন অভ্যুত্থান করে দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারকে ফেলে দেওয়া উচিত।

অর্জুন সিং
শেষ আপডেট: 11 September 2025 07:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের (Nepal) মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত বাংলায় (West Bengal)! এমনই চেয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং (Arjun Singh)। আর তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই থানায় থানায় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে।
তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের (Partha Bhowmik) নির্দেশে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারেটের বিভিন্ন থানায় অর্জুন সিং-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। অভিযোগ, উস্কানি দিয়ে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যানরা তাঁর বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ এনেছেন।
অর্জুন সিং-এর বক্তব্য, নেপালে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুবসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছে তা বড় উদাহরণ রাখে। বাংলায় এমনই গন অভ্যুত্থান করে দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারকে ফেলে দেওয়া উচিত। তিনি এও মনে করেন, নেপালের ১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণ-তরুণীরা যে সাহস দেখিয়েছে, সেটা বাংলার ছেলেমেয়েদেরও দেখানো উচিত। অর্জুনের এই ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই থানায় মামলা রুজু করেছেন শাসক শিবির।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, খোদ ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও এমনই গণ আন্দোলন চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। লিখেছিলেন, “আর কবে? আর কবে? আপনারাও কি আমার মত স্বপ্ন দেখেন?” নেপালের প্রধানমন্ত্রী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা পদত্যাগ ও সেনা হস্তক্ষেপের ঘটনাকে ইঙ্গিত করেই তিনি আরও লেখেন, “কবে যে আমাদের দেশের তানাশাহদের একই হাল হবে! অহিংস পথে দুর্নীতির শিরোমণিদের মুখোশ আর ফাইল খুলে যাবে!”
এই পোস্টকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তিনি কি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন, নাকি পরোক্ষভাবে রাজ্যের শাসকদের দিকেও তির ছুড়েছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “তানাশাহ” শব্দবন্ধটি সরাসরি মোদী সরকারের উদ্দেশে হলেও বিরোধীরা এখন তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলছেন।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিধায়ককে সতর্ক করতে পদক্ষেপ নিতে পারে কারণ - এ ধরনের মন্তব্য বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেবে। যদিও এখনও পর্যন্ত দলের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অর্জুনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেই তৃণমূলের। পরবর্তী সময়ে হয় কিনা, সেটাই দেখার।