জীবনতলা এলাকায় রাতভর টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ চলে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নিজে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় শওকত মোল্লাকে। তিনি শান্ত থাকার আর্জি জানালেও ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

শওকত মোল্লা
শেষ আপডেট: 19 March 2026 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ঘিরে তৈরি হওয়া বিক্ষোভ সামাল দিতে কৌশলী পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Candidate List 2026)। ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে উত্তেজনার আবহে বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে (Soakat Molla) ওই কেন্দ্রের চেয়ারম্যান পদে বসানো হল।
প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ক্যানিং পূর্বে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। শওকত মোল্লাকে প্রার্থী না করে বাহারুল ইসলামকে টিকিট দেওয়ায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দলের একাংশ কর্মী-সমর্থক। জীবনতলা এলাকায় রাতভর টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ চলে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নিজে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় শওকত মোল্লাকে। তিনি শান্ত থাকার আর্জি জানালেও ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে দলীয় ক্ষোভ প্রশমিত করতেই শওকতকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্যানিং পূর্বের চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে তাঁকে ওই কেন্দ্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রাখা হল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এতে একদিকে যেমন বিক্ষুব্ধ কর্মীদের বার্তা দেওয়া হল, তেমনই শওকতের সাংগঠনিক প্রভাবও কাজে লাগাতে পারবে দল।
২০২৬-এর নির্বাচনে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে বাহারুল ইসলামকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তিনি শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। যদিও তাঁর বাড়ি ভাঙড় বিধানসভা এলাকায়। অন্যদিকে শওকতকে ভাঙড়ে প্রার্থী করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাঙড়ে আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকির প্রভাব কাটাতেই এই কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। শওকত মোল্লার মতো অভিজ্ঞ নেতাকে সেখানে নামিয়ে লড়াইকে আরও জোরদার করতে চাইছে দল।
সব মিলিয়ে, প্রার্থী তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ সামাল দিতে সংগঠনের ভিত মজবুত রাখার দিকেই নজর দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শওকত মোল্লাকে চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে ভোটের মুখে ভাঙড়ের রাজনৈতিক আবহে উত্তেজনা বেড়েছে। কারণ বৃহস্পতিবারই শওকত 'বিরোধী' আরাবুল ইসলাম আইএসএফ-এ যোগ দেন। শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ‘তাজা নেতা’ আগেই জানিয়েছিলেন, যে দলের জন্য তিনি প্রাণপাত করেছেন, সেই দলই তাঁকে বারবার অপমান করেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। আরাবুলের দাবি, এখনও ভাঙড়ে তাঁর জনভিত্তি অটুট। তাঁর কথায়, তিনি রাস্তায় নামলেই হাজার হাজার মানুষ তাঁর কাছে ছুটে আসেন এবং ভাঙড়ের মানুষ সবসময় তাঁর পাশে রয়েছেন।