কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের সময় ঘটে যাওয়া একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল সাবিনার মেয়ে তামান্নার। অভিযোগ উঠেছিল, উপনির্বাচনে জয়ের পর বিজয় মিছিলের সময় সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ছিল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।
.jpg.webp)
তামান্নার মা
শেষ আপডেট: 17 March 2026 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে সিপিএম (CPM Candidate List)। সেই তালিকায় নজর কেড়েছে একটি নাম। নদিয়ার কালীগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনকে (Tamanna Mother Sabina Yasmin)। কয়েক মাস আগেই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁর মেয়ে তামান্নার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এবার নির্বাচনের ময়দানে নামছেন তিনি।
কিন্তু কালীগঞ্জের সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়নি। তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ সিপিএমের স্থানীয় কর্মীরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার কালীগঞ্জে দলের কার্যালয় ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে।
কিন্তু কেন বিরোধিতা? বিক্ষোভকারীদের দাবি, উনি সিপিএমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন, আর দলেও তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। তাই তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মানবেন না। মঙ্গলবার সকালে কালীগঞ্জের সিপিএম পার্টি অফিসে কার্যত তাণ্ডব চালালেন দলের তৃণমূলস্তরের কর্মীরা। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের সময় ঘটে যাওয়া একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল সাবিনার মেয়ে তামান্নার। অভিযোগ উঠেছিল, উপনির্বাচনে জয়ের পর বিজয় মিছিলের সময় সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ছিল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময়েই বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় তামান্না। সোমবার সিপিএমের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তামান্নাকে ‘শহিদ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবি থেকেই সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেন পুলিশকে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের পর দ্রুত তদন্ত শুরু হয় এবং মাত্র এক দিনের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। তবে সেই সাক্ষাৎ আর হয়ে ওঠেনি।
ঘটনার পর তামান্নার পরিবার গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসতে পারে - এই আশঙ্কা তাঁদের তাড়া করছিল। পাশাপাশি লাগাতার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। এই মানসিক চাপের মধ্যেই একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন সাবিনা। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠে এখন রাজনৈতিক ময়দানের লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছেন।