কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের সময় ঘটে যাওয়া একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল সাবিনার মেয়ে তামান্নার। অভিযোগ উঠেছিল, উপনির্বাচনে জয়ের পর বিজয় মিছিলের সময় সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ছিল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময়েই বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় তামান্না।

তামান্নার মা - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 March 2026 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের সূচি (West Bengal Assembly Election 2026 Dates) ঘোষণার পরই সোমবার প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল সিপিএম (CPM Candidate List)। সোমবার ঘোষিত সেই তালিকায় নজর কেড়েছে একটি নাম। নদিয়ার কালীগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনকে (Tamanna Mother Sabina Yasmin)। কয়েক মাস আগেই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁর মেয়ে তামান্নার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এবার নির্বাচনের ময়দানে নামছেন তিনি।
কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের সময় ঘটে যাওয়া একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল সাবিনার মেয়ে তামান্নার। অভিযোগ উঠেছিল, উপনির্বাচনে জয়ের পর বিজয় মিছিলের সময় সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ছিল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময়েই বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় তামান্না।
ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেন পুলিশকে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের পর দ্রুত তদন্ত শুরু হয় এবং মাত্র এক দিনের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। তবে সেই সাক্ষাৎ আর হয়ে ওঠেনি।
ঘটনার পর তামান্নার পরিবার গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসতে পারে - এই আশঙ্কা তাঁদের তাড়া করছিল। পাশাপাশি লাগাতার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
এই মানসিক চাপের মধ্যেই একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন সাবিনা। অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলেন তিনি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আনা হয়েছিল।
সোমবার সিপিএমের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তামান্নাকে ‘শহিদ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবি থেকেই সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন শোক ও আতঙ্কে থাকা এক মা এবার সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।
কালীগঞ্জে এই প্রার্থীপদ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন যত এগোবে, এই কেন্দ্রের লড়াই যে আরও বেশি করে নজর কাড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কোনও সন্দেহ নেই।