বীরভূমের সিউড়িতে অবস্থিত এই জলাধার থেকে জেলায় সেচের জল পায় অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমি। ধান, ডাল, সরষে, মরশুমি সবজি চাষের অন্যতম নির্ভরতা এই জলাধার। এখন তা কার্যত অচল।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 August 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়ূরাক্ষীর বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা ৭৪ বছরের পুরনো তিলপাড়া জলাধার (Tilpara Devastated by Dam Breach) আজ সঙ্কটের মুখে। বাঁধের অন্তত ১০টি গেটের ওয়াটার ডিভাইডারে বড়সড় ফাটল, কোথাও কোথাও আংশিক ধসও। এর জেরে জলাধার জলশূন্য করে জরুরি সংস্কারের পথে হাঁটল প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় জল কমিশনের বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করেছেন জলাধার এলাকা। নেতৃত্বে রয়েছেন বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদ। তাঁর পরামর্শে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ।
১৯৫১ সালে তৈরি হয় এই জলাধার। নির্মাণ খরচ ছিল তখনকার দিনে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। বীরভূমের সিউড়িতে অবস্থিত এই জলাধার থেকে জেলায় সেচের জল পায় অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমি। ধান, ডাল, সরষে, মরশুমি সবজি চাষের অন্যতম নির্ভরতা এই জলাধার। এখন তা কার্যত অচল।
বাঁধের দুই ধারে রয়েছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার সেচ খাল। এখনই সংস্কার না হলে, ভবিষ্যতে গোটা চাষের মরশুমই হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এক কৃষকের কথায়, "জল না পেলে বীজ রোপণই হবে না। মরশুম চলে যাবে।"
জলাধারের উপরের সেতুটি হল জাতীয় সড়ক ১৪-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী প্রধান রাস্তা এটি। কিন্তু ওয়াটার ডিভাইডার ভেঙে পড়ার ফলে এখন এই পথ পুরোপুরি বন্ধ। ফলে, প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী গাড়ি ঘুরপথে সিউড়ি-সাঁইথিয়া হয়ে যাতায়াত করছে। তাতে যেমন সময় বাড়ছে, তেমনই পরিবহণ খরচও বেড়েছে লাফিয়ে।
রাজ্য সেচ দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, "সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের অফিসার, ইঞ্জিনিয়াররা এসেছেন। দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।" ইতিমধ্যেই সেতুর নীচে বোল্ডার ফেলে কাঠামো মজবুত করার কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে জলাধার ও সেতুর কোনও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হয়নি। ২০০০ সালের বন্যার পরে কিছু কাজ হয়েছিল। কয়েক বছর আগে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও, প্রকৃত কাজ কতটা হয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, "বালি উত্তোলনের নামে টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু ফল নেই।"
স্থানীয়দের দাবি, দেউচা-পাঁচামির কয়লাখনি এবং মহম্মদবাজার অঞ্চল থেকে ভারী ওভারলোডেড ট্রাক, ডাম্পার প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বাঁধে এই বিপর্যয়। সঙ্গে, সাম্প্রতিক অতিরিক্ত বর্ষণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।