সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ‘সেটিং’ পোস্টার। এবার সেই প্রসঙ্গে সরাসরি মুখ খুললেন কল্যাণ। টুইটে জানালেন, ‘‘আমি অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে দায়বদ্ধ নই। তবু বলছি।’’

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 12 August 2025 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে এসআইআরের (SIR) বিরুদ্ধে তৃণমূল সাংসদদের ধর্ণার সময় অনুপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। সেই নিয়েই জোর গুঞ্জন। এর মধ্যেই সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলায় আরও বেড়েছে বিতর্ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ‘সেটিং’ পোস্টার। এবার সেই প্রসঙ্গে সরাসরি মুখ খুললেন কল্যাণ। টুইটে জানালেন, ‘‘আমি অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে দায়বদ্ধ নই। তবু বলছি।’’
কল্যাণের দাবি, তিনি ছিলেন সাংসদদের বাসস্থান সংক্রান্ত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনে। সেই কাজের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ছিল তাঁর। সাংসদ লিখেছেন, ‘‘২০১৪ সাল থেকে আমি সংসদীয় ভবন কমিটির সদস্য। আমার উদ্যোগেই নবনির্বাচিত সাংসদদের জন্য বাবা খড়গ সিং মার্গে ১৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ হয়েছে। উদ্বোধনের পরে আমি সোজা সুপ্রিম কোর্টে যাই, যেখানে দলের হয়ে এসআইআরের বিরুদ্ধে মামলা এবং ওবিসি সংক্রান্ত অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করি।’’
কল্যাণের এই ব্যাখ্যার পরও দলীয় স্তরে বিতর্ক থামছে না। বরং প্রশ্ন উঠছে, তিনি কীভাবে দিল্লিতে বড় সরকারি বাংলো পেলেন? দলের একাংশের মতে, কল্যাণ না মন্ত্রী, না কেন্দ্রীয় নেতা, এমন অবস্থায় টাইপ সেভেন বা টাইপ এইট বাংলো পাওয়া ‘সেটিং’ ছাড়া সম্ভব নয়।
এখানেই শেষ নয়। কল্যাণের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়েও কানাঘুষো চলছে তৃণমূলের অন্দরে। লোকসভায় দলের নেতা পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসানোর পরই মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। যদিও অভিষেক তাঁকে পদে থাকার অনুরোধ করেন, শেষমেশ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ইস্তফা গ্রহণ করেন। সূত্রের খবর, সেই সিদ্ধান্তেই অসন্তুষ্ট কল্যাণ।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণ লেখেন, ‘‘যাঁরা আমার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলি, গত লোকসভা নির্বাচনে এক লক্ষ পঁচাত্তর হাজার ভোটে জিতেছিলাম। হাজার চেষ্টা করেও আমাকে হারানো যায়নি। ঈশ্বর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার আনুগত্য প্রশ্নাতীত।’’
রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে কল্যাণ বারবার কাঁটা হয়ে উঠছেন। অতীতেও তাঁর মন্তব্য নিয়ে দলের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এবারও হয়তো ‘সেটিং’ পোস্টারের মাধ্যমে সেই অসন্তোষই প্রকাশ্যে এল। তবে সোশ্যাল মাধ্যমে কল্যাণ যেভাবে ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোটে জেতার প্রসঙ্গ টেনেছেন তাতে অসন্তুষ্ট তৃণমূলের অনেকেই। তাঁদের মতে, জবাবদিহি দেব না বলেও তা করতে গিয়েও সেই আত্মঅহঙ্কারই প্রকাশ করে ফেললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।