তথ্য আগাম পেয়ে পাঞ্জাব পুলিশের এসটিএফ হাওড়া সিটি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর যৌথ সমন্বয়ে ফাঁদ পেতে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকেই তিন জনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়।

লরেন্স বিষ্ণোই
শেষ আপডেট: 12 January 2026 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা খুন থেকে শুরু করে অভিনেতা সলমন খান ও কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মাকে হত্যার হুমকি - বিগত কয়েক বছরে একের পর এক হাই-প্রোফাইল অপরাধে উঠে এসেছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের (Lawrence Bishnoi Gang) নাম। সেই অপরাধচক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) চত্বর থেকে গ্রেফতার করল হাওড়া সিটি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ (Golbari PS) অভিযান চালিয়ে হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) এলাকা থেকে তিন জনকে পাকড়াও করে। ধৃতদের নাম করণ পাঠক, তরণদীপ সিংহ এবং আকাশদীপ সিংহ। তিন জনই পাঞ্জাবের বাসিন্দা এবং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
বর্তমানে লরেন্স বিষ্ণোই (Lawrence Bishnoi) জেলে থাকলেও তাঁর অপরাধচক্রের কার্যকলাপ থামেনি। দেশ-বিদেশে বিস্তৃত এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, চুক্তিভিত্তিক খুন ও বেআইনি কারবারে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কানাডা-সহ বিদেশেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে খুনের হুমকি দিয়েছে। সম্প্রতি কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মাকে হত্যার হুমকির পাশাপাশি বিদেশে তাঁর ক্যাফেতে হামলার অভিযোগও উঠেছে এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।
পাঞ্জাব পুলিশের এসটিএফ (Punjab Police STF) সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিন জনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। সম্প্রতি পাঞ্জাবের কবাডি খেলোয়াড় রানাবালা চৌরের খুনে তাঁদের নাম জড়ায়। ওই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের খুঁজছিল পাঞ্জাব পুলিশের এসটিএফ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ১৫ ডিসেম্বর কবাডি খেলোয়াড় খুনের ঘটনার পর তিন অভিযুক্ত গ্যাংটকের মাধ্যমে কলকাতায় এসে আত্মগোপন করেছিল। তবে তারা কলকাতায় বেশিদিন থাকতে চাইছিল না। পুলিশের অনুমান, রবিবার রাতে হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে অন্য রাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা করছিল ধৃতরা।
এই তথ্য আগাম পেয়ে পাঞ্জাব পুলিশের এসটিএফ হাওড়া সিটি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর যৌথ সমন্বয়ে ফাঁদ পেতে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকেই তিন জনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়।
হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃত তিন জনের প্রত্যেকেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তাদের হেফাজতে নিয়ে পাঞ্জাব পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।