“এবার পিকনিক-ফিকনিক হবে না। পিকনিক একেবারে ২০২৬-এর জয়ের পর হবে।”

শেষ আপডেট: 22 December 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে আর কোনও ঢিলেমি নয়—সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) এবং বিএলএ-২ দের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এবার পিকনিক-ফিকনিক হবে না। পিকনিক একেবারে ২০২৬-এর জয়ের পর হবে।”
এই বৈঠকে মোট ৪০টি বিধানসভার বুথ স্তরের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছিল। ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই দলীয় কর্মীদের কার্যত যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির নির্দেশ দেন তৃণমূলনেত্রী।
মমতার বার্তা স্পষ্ট, ভোটার তালিকার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগে ‘নাওয়া-খাওয়া ভুলে’ কাজ করতে হবে। কোন কোন বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় ওঠেনি, তার বিস্তারিত খোঁজ নিতে হবে বুথ স্তরেই। প্রয়োজনে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশও দেন তিনি।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটার তালিকায় একটিও বৈধ নাম যেন বাদ না পড়ে। সেই সঙ্গে বিএলএ ও বিএলএ-২ দের আরও সক্রিয় ও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ—খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার নেপথ্যে বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। শুধু বিজেপিই নয়, নির্বাচন কমিশনকেও কাঠগড়ায় তুলেছে শাসকদল। তৃণমূলের সাফ কথা, একটি বৈধ নামও যদি বাদ যায়, তার পরিণতি হবে ‘মারাত্মক’।নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি নিশানা করে মমতা বলেন, “এরকম নির্লজ্জ কমিশন আমি জীবনে দেখিনি, দেখতেও চাই না।”
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, 'এবার পিকনিক-ফিকনিক হবে না। পিকনিক একেবারে ২০২৬-এর জয়ের পর হবে', একথার মধ্যে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষে এই বার্তাও দিতে চাইলেন যে, এসআইআর করেও বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন পূরণ হবে না। ২০২৬ সালে ফের বাংলার ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল।