বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর শ্লেষ, "বিজেপি তুমি আমাদের সাথে খেলে পারবে না। বাংলাকে জব্দ করতে এলে তোমাদের স্তব্ধ করে দেব!"
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 22 December 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর ইস্যুতে (SIR) বাংলার ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। অথচ তাতেও নাকি সন্তুষ্ট নয় বিজেপি। আরও দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ চলছে বলে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) বিএলএ এবং বিএলএ-২দের বৈঠক থেকে এই ইস্যুতে দলের নিচুতলার নেতৃত্বকে তীব্রভাবে সতর্ক করলেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি নিজেদের স্বার্থে সমস্ত এজেন্সিকে ‘দালাল’ বানিয়ে ফেলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “ড্রাফট লিস্টে ৫৮ লক্ষ বাদ দেওয়ার পরেও বলছে দেড় কোটি বাদ দিতে হবে। খোকাবাবুদের আবদার! সব যেন লাড্ডু!”
এরপরই বিজেপিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতার শ্লেষ, “বিজেপি, তুমি আমাদের সঙ্গে খেলতে এলে পারবে না। বাংলাকে জব্দ করতে এলে তোমাদের স্তব্ধ করে দেব!”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকায় বৈধ ভোটারদের নাম না ওঠা কোনও প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। শুধু বিজেপিই নয়, নির্বাচন কমিশনকেও সেই ষড়যন্ত্রের শরিক বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
এসআইআর ঘিরে বাংলায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার প্রশ্ন, “গায়ের জোরে দু’বছরের কাজ দু’মাসে করতে চাইছে। ৪৬টা প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর দায় কে নেবে? কমিশন তো দায় এড়াতে পারবে না।”
বিজেপি–কমিশনের এই ‘যড়যন্ত্র’ মোকাবিলায় মাঠে নামার স্পষ্ট নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিএলএ ও বিএলএ-২দের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—বাড়ি বাড়ি ঘুরে খতিয়ে দেখতে হবে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা বাস্তবে আছেন কি না। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ফর্ম ৬ ও অ্যানেক্সার–৪ সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে জমা দিতে হবে।
একই সঙ্গে যাঁদের ‘আনম্যাপড’ করা হয়েছে, তাঁরা সবাই হিয়ারিং নোটিস পেয়েছেন কি না তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে যাদের নাম নেই, তাঁদের কমিশন নির্ধারিত ১১টি প্রমাণপত্র হাতের কাছে রাখার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁদের কাছে এই নথিগুলি নেই, তাঁদের দ্রুত স্থায়ী এসসি বা ওবিসি সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হবে। এজন্য রাজ্যের তরফে আয়োজিত ক্যাম্পে আবেদন জানানোর কথাও বলেন তিনি।
লজিক্যাল অসংগতির কারণে যাঁরা শুনানির নোটিস পেয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোরও নির্দেশ দেন মমতা। এই কাজে বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেক কাউন্সিলর কাজ করেন না, শুধু পার্টির বদনাম করেন। দরকার হলে ওঁদের জায়গায় ব্লক প্রেসিডেন্ট বসিয়ে দেব।”
ফর্ম ৬ জমা দেওয়া ভোটারদের ক্ষেত্রে নজরদারি ও হাসিমুখে সহযোগিতার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে নাম তোলার আবেদনকারীদের বিষয়েও খোঁজখবর রাখতে বলেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভবিষ্যতের স্বার্থে একবার রাজ্যে ফিরে এসে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
একই সঙ্গে অন্য রাজ্য থেকে ভোটের সময় যাঁরা আসছেন, তাঁদের উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেন মমতা। সব মিলিয়ে এসআইআর ইস্যুতে এদিন নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে কার্যত বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের রূপরেখা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।