আগামী ২২ ডিসেম্বর কলকাতায় দলের বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 17 December 2025 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খসড়া ভোটার তালিকা (Draft List) প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রকাশিত তালিকায় ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি। এই আবহে কমিশনের শুনানি শুরু হওয়ার আগেই সংগঠনিক স্তরে তৎপর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২২ ডিসেম্বর কলকাতায় দলের বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠকে (big meeting on BLAs) বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)।
সূত্রের খবর, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বৈঠকে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও হুগলির একাংশের বিএলএ-দের ডাকা হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের দিনই ভবানীপুরে দলের বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই কলকাতার সংগঠনকে নিয়ে আলাদা করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত।
এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়, সে বিষয়ে শুরু থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আসছেন মমতা ও অভিষেক। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের শুনানি পর্ব। খসড়া তালিকায় নাম থাকা ভোটারদেরও প্রয়োজনে শুনানিতে ডাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতেই এই বৈঠক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএলও-দের সঙ্গে তাঁরাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করেন। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, সেই দায়িত্ব মূলত তাঁদের কাঁধেই। কমিশনের শুনানি শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন এই বৈঠক করে তৃণমূল তাদের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আর এক ঘটনায় নজর কেড়েছে রাজ্য রাজনীতির। সোনালি খাতুনের (Sonali Khatun) সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই কালীঘাটে তাঁদের সাক্ষাৎ হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ ১৯ বা ২০ ডিসেম্বর।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সোনালি বিবি। পেটে ব্যথা নিয়ে তাঁকে ফের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে স্পেশাল অবজারভেশনে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকায় এই মুহূর্তে পরিবার ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এই সোনালি খাতুনকেই কিছু দিন আগে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছিল বিএসএফ। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে থাকতে হয়েছিল বাংলাদেশের জেলে। এই ঘটনার পর থেকেই সরব হয় তৃণমূল। বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত মানবিকতার খাতিরে নমনীয়তা দেখানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে সোনালি ও তাঁর সন্তানের ভারতে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেয়।
পুশব্যাকের সিদ্ধান্তে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট সোনালির নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সোনালির বাবা যদি ভারতীয় হন, তা হলে কোন যুক্তিতে তাঁকে বাংলাদেশি বলা হল? এই মন্তব্যের পরই দেশে ফেরেন সোনালি খাতুন। এর আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি সোনালির সঙ্গে দেখা করবেন। এ বার সেই সাক্ষাৎই হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।