তাঁর বক্তব্য, এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়। এখনও ৪৫-৫০ দিন ধরে সংশোধনের কাজ চলবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 17 December 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) ইস্যুতে ফের বিজেপিকে (BJP) তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর অভিযোগ, যারা বাংলাকে খাটো করতে অনুপ্রবেশকারীদের আঁতুরঘর বলে দাগিয়ে দিয়েছিল, তাদের দাবিই এ বার কার্যত খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
অভিষেকের কথায়, “বিজেপির নেতারা বলেছিল দেড় কোটি রোহিঙ্গা, দেড় কোটি বাংলাদেশির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। বিজেপির সেই কথা তো মুখ থুবড়ে পড়েছে, ওদের সহযোগী সংস্থা ইলেকশন কমিশনই সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে।”
তাঁর দাবি, এসআইআর হলে সাধারণত দেড় থেকে দু’ শতাংশ নামই বাদ পড়ে। অভিষেকের কথায়, “এ বারও মৃতদের যে ২৪ লক্ষ নাম বাদ গেছে বলে বলা হচ্ছে, সেটা মোট ভোটারের নিরিখে প্রায় ২ শতাংশই, একইভাবে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে এরকমই নাম বাদ পড়ে।”
এখানেই না থেমে অভিষেক বলেন, যাঁরা বাংলাকে বাংলাদেশিদের আঁতুরঘর বলে কালিমালিপ্ত করেছিল, তাঁদের উচিত ১০ কোটি মানুষের কাছে কানধরে উঠবোস করে ক্ষমা চাওয়া।
খসড়া তালিকা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে অভিষেক বলেন, এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়। এখনও ৪৫-৫০ দিন ধরে সংশোধনের কাজ চলবে। অনেকে হয়তো বাইরে আছেন। অনেকের নাম ফের যুক্ত হবে, ভুলত্রুটি ঠিক করা হবে। ফাইনাল লিস্ট প্রকাশিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ফলে অযথা আতঙ্কিত হবেন না।
এসআইআর এ বহু প্রকৃত ভোটারের নাম যে বাদ গেছে, তারও উদাহরণ দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ডানকুনিতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের কাউন্সিলরকে মৃত দেখিয়েছে। জ্যান্ত মানুষকে যেখানে মৃত দেখানো হয়, সেখানে এসআইআরের গুরুত্ব স্পষ্ট। কটাক্ষের সুরে এও বলেন, "যাদের ভোটে মোদী প্রধানমন্ত্রী হলেন, আজ তাঁদেরই বলছেন অবৈধ! আসলে এরা মানুষকে মানুষ বলে মনে করে না।"
বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, “বাংলাকে বদনাম করার রাজনীতি বহুদিন ধরেই চলছে। কিন্তু তথ্য আর পরিসংখ্যানের সামনে সেই অপপ্রচার টিকছে না।”
কেন একথা বলছেন তাঁর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, "বাংলার মানুষের রায়ে পরাজিত হওয়ার পর থেকে ক্রমাগত বাংলার টাকা আটকে রাখা, বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়ে যাওয়াটাই বিজেপির রাজধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকী বাংলায় কথা বলার জন্য ভিনরাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন কী না করেনি এরা। এই কারণেই এদের আমরা বাংলাবিরোধী বলি।"
যেভাবে দু'বছরের এসআইআর এর কাজকে জোরজবরদস্তি করে দু'মাসে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, অমানসিক চাপের মুখে একের পর এক বিএলও আত্মঘাতী হয়েছেন তার দায় কে নেবে, এদিন সেই প্রশ্নও তোলেন অভিষেক।
অভিষেক বলেন, "নিশ্চিতভাবে বলছি, বিজেপির এই এসআইআর এর পরও তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবং ভোটের হার দুটোই বাড়বে। কারণ, মানুষ ওদের এই জোর জবরদস্তির জবাব আবারও ভোট বাক্সে দেবে।"
অভিষেক এও বলেন, "তর্কের খাতিরে হয়তো ধরে নিচ্ছি, বাংলায় বাংলাদেশিরা ঢুকেছে। তাহলে দিল্লিতে বিস্ফোরণ হল কী করে? পহেলগামে জঙ্গি হামলা হল। এই ব্যর্থতার দায় কার? দেশের সীমান্ত কার অধীনে?"