মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিশন বলছে ১৫ দিনের মধ্যে এসআইআর করতে হবে! এরা কি বিজেপির কথা মতো চলছে? সবটাই চলছে অমিত শাহের নির্দেশে। যেন অ্যাক্টিং প্রাইম মিনিস্টার!”

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 8 October 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতি বৃষ্টি-ধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ থেকে বুধবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পরই ফের কেন্দ্রর (Central Government) বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বললেন, “অনেক সরকার দেখেছি, কিন্তু এরকম ভয়ানক সরকার আমি আগে কখনও দেখিনি। এরা তো দেশটাকে পুরো শেষ করে দেবে।" কটাক্ষের সুরে এও বললেন, "বেশি দম্ভ ভাল নয়। মনে রাখবেন, কোনও কিছুই স্থায়ী নয়।”
গত শনিবারের অতিবৃষ্টি এবং ধসের জেরে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত। সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কলকাতায় ফিরে কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বলতে খারাপ লাগছে, ভোটের জন্য টাকা আছে, ত্রাণের জন্য টাকা নেই, এটাই এই সরকারের নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্টে দুর্যোগের মধ্যেও কুৎসার রাজনীতি করে চলেছে।"
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা নিয়েও সরব হন মমতা। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি নাম করে অমিত শাহকেও আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিশন বলছে ১৫ দিনের মধ্যে এসআইআর করতে হবে! কমিশন কি বিজেপির অধীনে নাকি? আসলে সবটাই চলছে অমিত শাহের নির্দেশে। যেন অ্যাক্টিং প্রাইম মিনিস্টার!” এখানেই থামেননি, শাহকে ‘বড় মীরজাফর’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এমনকী মোদীর উদ্দেশে মমতা এও বলেন, "সরি টু সে, ডোন্ট ট্রাস্ট অমিত শাহ অলওয়েজ। আগে থেকে সাবধান হয়ে যান, না হলে বড় মীরজাফরের খপ্পরে পড়তে হবে!"
ত্রিপুরায় তৃণমূল নেতাদের ‘হেনস্থার’ অভিযোগ ঘিরেও কড়া বার্তা শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “আমি আগেই নির্দেশ দিয়েছি, দরকার হলে ওরা হেঁটে ঘুরবে। প্রতিনিধি দলকে আটকালে আমি নিজে যাব ত্রিপুরায়। আগেও আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, ভয় পাই না।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিভিসি-র জলছাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “মানুষের দুর্দশার সময় এই জলছাড়া কেন?”
এছাড়া বন্যাকবলিত নাগরাকাটায় আহত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর বিষয়ে সংবেদনশীল মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমি গিয়ে দেখে এসেছি। আরোগ্য কামনা করেছি, আমি আমার কর্তব্য করছি।” তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, “বন্যার সময়ে দুর্গত এলাকায় ৩০-৪০টি গাড়ি নিয়ে যাওয়া কি ঠিক ছিল?”
একই সঙ্গে মিরিকে ত্রাণ পাঠানো, এবং প্রায় ১ হাজার পর্যটককে বাসে করে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।