বৃহস্পতিবার বিধানসভার গেটে দাঁড়িয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, খগেন মুর্মুর আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দেখাচ্ছে এরা কেউই আসল দোষী নয়।

শেষ আপডেট: 9 October 2025 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নাগরাকাটায় দলীয় সাংসদ-বিধায়কের উপর হওয়া হামলার ঘটনায় শুধু তৃণমূল নয়, পুলিশ প্রশাসনকেও এক ব্রাকেটে রেখে আক্রমণ শানানোর কাজ করে যাচ্ছে রাজ্য বিজেপি। পরপর দু'দিন পুলিশের দিকে আঙুল তুলে বিজেপির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন কেন ওই (নাগরাকাটার) ঘটনায় কোনও গ্রেফতার হল না। যদিও বুধবার সন্ধ্যায় ও বৃহস্পতিবার সকালের দিকে দু'দফা মিলিয়ে মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় জেলা পুলিশ। এই গ্রেফতারি নিয়েই এবার পুলিশের 'নিরপেক্ষতা' নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার গেটে দাঁড়িয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, খগেন মুর্মুর আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দেখাচ্ছে এরা কেউই আসল দোষী নয়। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, "৭২ ঘণ্টা হতে চলল, এফআইআরে নাম থাকা একজনকেও পুলিশ গ্রেফতার করেনি। যাদের গ্রেফতার করেছে, তাদের কারও নাম এফআইআরে (FIR) নেই। তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুলিশ ওদের তুলেছে। তৃণমূলই ওদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।"
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ "আসলে পুলিশ জানে এসটি কমিশন, লোকসভার অধ্যক্ষের চাপ আছে। ৭২ ঘণ্টা পুলিশ কোন কাজই করে নি।" শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আসলে লোকাল (স্থানীয়) পুলিশ এই ধরনের ভালনারেবল মব (হিংস্র জনতা)-কে সাপোর্ট করে। এটা কোন রাজ্যে হয় না। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে, মব জমা হচ্ছে, কিন্তু পুলিশ সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মসকরা করছে। পুলিশ যদি ওই বিধায়ক-সাংসদের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে সহযোগিতা করত তাহলে এই ঘটনা এড়ানো যেত।"
বাংলার পুলিশকে অভিযোগের তিরে বিদ্ধ করলেও ত্রিপুরার পুলিশের ভূমিকা (সেখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙার সময় পুলিশের উপস্থিতি) নিয়ে প্রশ্নে অবশ্য ত্রিপুরা পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু বলেন, আমি যখন মহেশতলার ঘটনা নিয়ে রাজীব কুমারের সঙ্গে দেখা করতে ভবানী ভবনে গিয়েছিলাম তখন উনি অফিসে থেকেও আমার সঙ্গে, একজন বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি। আর ডঃ মানিক সরকারের (ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী) ডিজিপি তো দেখলাম ওদের জামাই আদর করেছে। আর ত্রিপুরার পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছিল বলেই অফিসের ভিতরে কিছু হয়নি।"