গ্রেফতারির পর ইন্দুবালার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। আইনি লড়াইয়েও তাঁকে সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইন্দুবালার ছবি হাতে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন দলের নেতারা।

শুরু রাজনৈতিক তরজা
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামের (Nandigram) ২০০৭ সালের বহুচর্চিত গণধর্ষণকাণ্ডে নতুন করে চাঞ্চল্য। ঘটনার প্রায় ১৯ বছর পরে সিবিআইয়ের (CBI News) হাতে গ্রেফতার হলেন ওই মামলারই অন্যতম প্রধান সাক্ষী ইন্দুবালা দাস (Indubala Das)। এই গ্রেফতারিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC News) অভিযোগ, তৎকালীন শাসিকদল সিপিএম-এর (CPIM) লোকজন প্রকৃত অভিযুক্ত। তাঁরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় মামলার সাক্ষীকেই নিশানা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে পুলিশের (Nandigram Police) গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরের দিন, ১৫ মার্চ গোকুলনগর এলাকায় মা ও তাঁর দুই মেয়ের উপর গণধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসে। রাজ্য রাজনীতিতে সেই ঘটনা তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল। পরে মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই। দীর্ঘ তদন্তের পরও অভিযুক্তদের শাস্তি না হওয়া নিয়ে একাধিক বার প্রশ্ন উঠেছে।
তৃণমূলের দাবি, এই মামলার মূল অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন। পাশাপাশি আরও দু’জন অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। অথচ এত বছর পর গিয়ে মামলার প্রধান সাক্ষী ইন্দুবালা দাসকে গ্রেফতার করা হল। বুধবার দুপুরে হঠাৎ করেই ১৯ বছরের পুরনো এই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই।
ইন্দুবালার রাজনৈতিক অতীত ঘিরেও শুরু হয়েছে আলোচনা। জানা গিয়েছে, এক সময় তিনি সিপিএম করতেন। পরে নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। শাসকদলের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে।
গ্রেফতারির পর ইন্দুবালার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। আইনি লড়াইয়েও তাঁকে সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইন্দুবালার ছবি হাতে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন দলের নেতারা। তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় বলেন, “ইন্দুবালার বয়স হয়েছে, তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। সাক্ষ্য দিতে যেতে না পারার অজুহাতে ১৯ বছরের পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হল।”
সুজিত রায়ের আরও অভিযোগ, ওই মামলার অভিযুক্তরা আগে সিপিএম করতেন এবং এখন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূলের বক্তব্য, আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় আবারও সিবিআই-সহ কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।