শুভেন্দুই তো একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য মানুষের কাছে আবেদন করেছিলেন। এখন তাঁর গলায় উল্টো সুর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2026 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ''উনি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) তৃণমূলের (TMC) সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। আমি খুশি যে, তাঁরা বিরোধী দলনেতার কেন্দ্র বেছে নিয়েছেন, প্যারাসিটামল আর ওআরএস বিতরণের জন্য'' বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় কর্মসূচির (sebaashray in Nandigram) সূচনা প্রসঙ্গে এমনটাই মত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।
''এখানকার মানুষ জানেন যে, শুভেন্দু অধিকারী সারাবছর ধরেই তাঁদের পাশে থাকেন। ওঁর (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) পিসি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)-কে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল শুভেন্দু নন্দীগ্রামের জন্য কী করত। নন্দীগ্রামের মানুষ কী করবেন, সেটা আমি বলে দিই না। আমি পাশে থাকি, আমি ওঁদের আত্মীয়ের মতো। দল যদি প্রার্থী করে মানুষই উত্তর দেবেন।''
নন্দীগ্রাম নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, ''এখানকার মানুষ এত সস্তা নয় যে, পুলিশি নিরাপত্তার হাজার ঘেরাটোপ পেরিয়ে প্যারাসিটামল নিতে যাবে। ওঁরা একসময় বামকেও শাসন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।'' শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রাম না থাকলে যে মুখ্যমন্ত্রী 'দিল্লি থেকে কলকাতা' আসার সুযোগ পেতেন না, সেকথাও সাফ জানান শুভেন্দু, তাতে শ্লেষের ঝাঁজ স্পষ্ট।
নির্বাচনের দামাম বেজে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতার অবস্থান স্পষ্ট। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ''যথাসময়েই নির্বাচন হবে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। তালিকা না দিতে পারলে তো ভোট হবে না। মন্ত্রীসভাও হবে না। ফলে, রাষ্ট্রপতি শাসন অবধারিত।''
শুভেন্দুই তো একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য মানুষের কাছে আবেদন করেছিলেন। এখন তাঁর গলায় উল্টো সুর। এ প্রসঙ্গে বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতার সাফ জবাব, '' আমি বিশ্বাস ভরসা নিয়ে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করতে বলেছিলাম। বলেছিলাম 'আনুন পরিবর্তন'। ১৫ বছরে দেখা হয়ে গেছে।''
তৃণমূলই বারবার কেন্দ্র সরকারকে অ্যাটাক করেছে, টার্গেট করেছে - জানান শুভেন্দু। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ''১ লক্ষ ৮ হাজার ভোট পাওয়ার পরও নন্দীগ্রামে প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি কেন? আমি প্রতিবছর আমার কাজের খতিয়ান প্রকাশ করি। ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত যা যা কাজ করেছি, তার তালিকা করে দিই। আমি কী এনেছি? ২০০০ কোটি টাকা ভারত সরকার দিয়েছে জাহাজ তৈরি আর মেরামতির জন্য। চার বছরে ৮৩৪ জন গ্রুপ ডি-তে চাকরি পেয়েছেন নন্দীগ্রাম থেকে। ৩১৫ কোটি টাকা কেন্দ্র দিয়েছে নন্দীগ্রাম রেল প্রজেক্টে।''
অভিষেককে কটাক্ষ করে শুভেন্দুর জবাব, ''মেল আইডি বা পেনড্রাইভ দেবেন, আমার কাজের খতিয়ান পাঠিয়ে দেব। আমার বিধানসভা কেন্দ্রে স্বাগত, আশা করি আসতে কোনও সমস্যা হয়নি। ওঁর পরিবারের কুশল কামনা করি।''
বিধানসভা ভোটে পার্টি যা সিদ্ধান্ত নেবে, তাই হবে, নন্দীগ্রাম হোক বা ভবানীপুর, যেখানে দলের মত, সেখানেই পার্টির কর্মী হিসেবে তিনি থাকবেন এমনটাই জানালেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ''আমি পার্টির ডিসিপ্লিনড কর্মী। যে কোনও সিটেই আমি লড়তে রাজি। পার্টি যদি না লড়তে বলে, তাতেও রাজি। তবে ভবানীপুর বা নন্দীগ্রাম, যেখানেই দাঁড়াই হারাব।''
শুভেন্দু জানান, ''ইডি যেভাবে আইনি পথে লড়ছে, সংবিধান বাঁচানোর জন্য লড়ছে, সেটাকে কুর্নিশ। কোনও রাজনৈতিক দল কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে চালায় না। সুপ্রিম কোর্টের ফাইনাল জাজমেন্টের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন মানুষ।''
এসআইআর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিরোধী দলনেতার সাফ জবাব, ''ঘুসপেটিয়াদের তাড়াতে হবে, এটা আপনাদের পরিবারের প্রশ্ন।''