শাসকদলের প্রশ্ন, “শুভেন্দু কিছু বললেই তো দেখা যায় সিবিআই তাঁর বাড়িতে রেড করে। তা হলে আজ যখন সিবিআই এসে এক বয়স্ক মহিলাকে গ্রেফতার করল, তখন তিনি নীরব কেন?”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামের গণধর্ষণ মামলায় (Nandigram gang rape case) অভিযুক্তদের আড়াল করতে সিবিআইকে (CBI) ব্যবহার করা হচ্ছে! এই অভিযোগ তুলে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শাসকদলের নিশানায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের স্থানীয় বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এদিন রেয়াপাড়ায় সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের তমলুক সংগঠনিক সভাপতি সুজিত রায়ের দাবি, অপরাধীদের ধরার বদলে মামলার সাক্ষীদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা।
তৃণমূলের বক্তব্য, ২০০৫ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে সংঘর্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। তার পরদিন গোকুলনগরে মা ও দুই মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার এক বয়স্ক সাক্ষীকে দিল্লি থেকে এসে সিবিআই গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ শাসকদলের। তাঁদের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে যিনি সাক্ষ্য দিতে পারছিলেন না, সেই নিরপরাধ মানুষকেই টার্গেট করা হয়েছে।
গোটা ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। শাসকদলের অভিযোগ, ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি ও জমি আন্দোলনের মুখ হিসেবে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেও, সেই মামলাতেই আজ অপরাধীদের বাঁচাতে সাক্ষীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
তাঁদের আরও অভিযোগ, এই মামলার অভিযুক্ত কালীপদ গাড়ুদাস, রাজু গাড়ুদাস, অনুকুল শিটেরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না, কারণ তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। উল্টো দিকে, অসুস্থ এক বয়স্ক সাক্ষীকেই গ্রেফতার করা হল। তৃণমূলের দাবি, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে শুভেন্দুর হাত রয়েছে।
সুজিত রায়ের প্রশ্ন, “শুভেন্দু কিছু বললেই তো দেখা যায় সিবিআই তাঁর বাড়িতে রেড করে। তা হলে আজ যখন সিবিআই এসে এক বয়স্ক মহিলাকে গ্রেফতার করল, তখন তিনি নীরব কেন?”
এখানেই থামেনি তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, নন্দীগ্রামের গণধর্ষণ মামলায় অপরাধীদের বাঁচাতে বিজেপি সিবিআইকে দিয়ে বেছে বেছে সাক্ষীদেরই গ্রেফতার করাচ্ছে, নানাভাবে হয়রানি চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে তা আপডেট করা হবে।