এরপরই বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ, ৩০ দিনের মধ্যে প্রোমোটারের নির্মীয়মাণ অংশ ভেঙে ফেলতে হবে।

বাগ বাজারে মা সারদা দেবীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি।
শেষ আপডেট: 11 July 2025 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা সারদা দেবীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িই এবার পড়ল প্রোমোটিংয়ের খাঁড়ার ঘায়ে। কলকাতার বাগবাজারে (Bagbazar) ‘মায়ের বাড়ি’র একাংশে (Part of Maa Sarada's house) বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে শেষমেশ হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। পুরসভার জমা দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতি সৌমেন সেন ৩০ দিনের মধ্যে নির্মীয়মাণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাগবাজারে মায়ের বাড়ির লাগোয়া ওই বাড়িটি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় বহন করে। কথিত আছে, এক সময় এক গৃহহীন শিষ্য চন্দ্রকে মা সারদা আশ্রয় দিয়েছিলেন ওই বাড়িতেই। তাঁর উত্তরসূরি কার্তিকচন্দ্র দত্ত ছিলেন নিঃসন্তান। অভিযোগ, তাঁর মৃত্যুর পর সেই বাড়ির অংশ বেআইনিভাবে দখল করে নেয় এক প্রোমোটার। শরিকি মালিকানার বাকি অংশে এখনও বাস করেন সমীর দত্ত এবং তাঁর ভাই।
পরিবারের অভিযোগ, মাত্র চার ফুট রাস্তার মুখে কী করে তিনতলা বাড়ির অনুমোদন মিলল, তা নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই। ২০২১ সালেই প্রাথমিক অভিযোগ জানানো হয় কলকাতা পুরসভায়। অভিযোগ, তৎপরতার ভান করে এলাকা পরিদর্শনে যান আধিকারিকরা, কিন্তু নির্মাণে বাধা দেওয়ার কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং বেআইনি নির্মাণ এগোতেই থাকে।
পরিস্থিতির মোকাবিলায় শেষমেশ হাইকোর্টে মামলা করেন সুখচাঁদ মিত্র নামে এক ব্যক্তি। আদালতে পুরসভার জমা দেওয়া রিপোর্টে অসংখ্য অসঙ্গতির দিকেই আঙুল ওঠে। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, 'এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ শুধু আইনবিরুদ্ধ নয়, ঐতিহ্য-ঐতিহাসিক মূল্যকে কলুষিত করে'।
এরপরই বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ, ৩০ দিনের মধ্যে প্রোমোটারের নির্মীয়মাণ অংশ ভেঙে ফেলতে হবে।
প্রসঙ্গত, বাগবাজারের এই বাড়ি ঘিরে বহু কিংবদন্তি ছড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাসের পাতায় পাতায় তার উল্লেখও মেলে। এবার সেই স্মৃতির জায়গায় যদি কংক্রিটের কাঠামো দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে লোপ পাবে এক অমূল্য অতীত। যা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন স্থানীয়দের একাংশও। অবশেষে আদালতের রায়ে স্বস্তি।