Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি! ওড়িশার ‘ডিটেনশন শিবির’ থেকে ফিরে আতঙ্কে কাঁটা ৩৬ জন শ্রমিক

 “বাংলায় কথা বললেই কি বাংলাদেশি হয়ে যেতে হয়?”

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি! ওড়িশার ‘ডিটেনশন শিবির’ থেকে ফিরে আতঙ্কে কাঁটা ৩৬ জন শ্রমিক

ছবি, এআই।

শেষ আপডেট: 11 July 2025 17:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ওড়িশার (Odisha) বিভিন্ন জেলার অস্থায়ী বন্দিশিবিরে দিনের পর দিন আটকে থেকে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হতে হল রাজ্যের ৩৬ জন পরিযায়ী শ্রমিককে (Migrant Laborers)। তাঁদের অনেকেই নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। কেউ তিন দিন, কেউ বা টানা তিন সপ্তাহ ছিলেন বন্দিদশায়। ফিরে এসে এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তাঁরা।

এই শ্রমিকেরা জানাচ্ছেন, ঝাড়সুগুদা, জগৎসিংহপুর, জাজপুর, কোরাপুট, ভদ্রক-সহ ওড়িশার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী শিবির। মোট ১৫টি থানার ১২টিতে চলছে ‘চিহ্নিতকরণ অভিযান’। পুলিশের তিনটি ভ্যান একদিন আচমকা নির্মাণস্থলে হানা দিয়ে তুলে নিয়ে যায় বাংলায় কথা বলা শ্রমিকদের। অভিযোগ, তাঁদের সন্দেহ করা হয় বাংলাদেশি নাগরিক বলে। অথচ অধিকাংশেরই কাছে আধার, ভোটার, রেশন কার্ড, এমনকি পাসপোর্ট পর্যন্ত ছিল।

নদিয়ার রাকিবুল ইসলাম, সাইনুল ইসলাম, হাসিবুল শেখরা জানাচ্ছেন, তাঁরা দুই দশক ধরে ওই রাজ্যে কাজ করছেন। স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক থাকলেও বিপদের সময়ে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। সাইনুলের কথায়, “পুলিশ আমাদের তুলে নিয়ে গেলেও, যাঁদের কাছে এত বছর কাজ করেছি, তাঁরা একটা কথাও বলেননি। মুখও দেখায়নি।”

বন্দিদশায় কীভাবে কাটিয়েছেন? আনোয়ার হোসেনের কথায়, “সকালে পোকাধরা চিঁড়ে-গুড়, দুপুর-রাতে ডালভাত-আলুসেদ্ধ। অনেক দিন না খেয়েই কাটাতে হয়েছে। মেঝেতে কাপড় পেতে শুতে হত। গরম আর আতঙ্কে চোখে ঘুম ছিল না।”

রাকিবুলের দাবি, “সব পরিচয়পত্র ছিল। তবু প্রশ্নের শেষ নেই— বাবা-মার জন্ম কোথায়, কেন পাসপোর্ট করিয়েছি, ’৭৫ সালের আগের জমির কাগজ কোথায়!”

এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর প্রশ্ন, “সব কাগজ থাকা সত্ত্বেও পরিযায়ী শ্রমিকদের এভাবে আটকে রেখে নিগ্রহ কেন?” উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্টও। তবে এ ব্যাপারে ওড়িশা সরকারের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রশ্ন উঠছে— এটা কি নিছক নিরাপত্তা সংক্রান্ত তল্লাশি, না কি ভাষার ভিত্তিতে জাতিগত শিকার বেছে নেওয়া? বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের মনে দগদগে প্রশ্ন, “বাংলায় কথা বললেই কি বাংলাদেশি হয়ে যেতে হয়?”

এখন তাঁরা ফিরেছেন। তবে যাঁরা এখনও ‘ভিতরে’, তাঁদের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে প্রতি মুহূর্তে। ফিরে আসা শ্রমিকদের একটাই আবেদন, “ওরা যেন আর একটা দিনও সেখানে না থাকে।”
 


```