সিবিআই তদন্তেরও দাবি আইএসএফ বিধায়কের।

নওসাদ ও শওকত।
শেষ আপডেট: 11 July 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙড়ে (Bhangar Case) রাজ্জাক খাঁর খুনের ঘটনায় ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতির পারদ। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে— এমনটাই বিস্ফোরক দাবি করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি (Nausad Siddiqui)। তাঁর সোজাসাপটা কথা, ‘‘শওকত মোল্লাকে (Shaukat Molla) জেরা করলেই খুনের আসল রহস্য সামনে চলে আসবে।’’
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার চালতাবেড়িয়া এলাকায় গুলি করে খুন করা হয় তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খাঁকে। ঘটনার পরপরই ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা অভিযোগ করেন, এই হামলার পিছনে আইএসএফ-সহ বিরোধীদের মদত রয়েছে। পাল্টা জবাবে শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে নওসাদ বলেন, “এই খুন কোনও বিরোধী ষড়যন্ত্র নয়, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই ফল। ভাগ বাটোয়ারা এবং প্রভাব বিস্তার নিয়েই গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ। প্রশাসনের উচিত, শওকতের গতিবিধি খতিয়ে দেখা ও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা।”
যার জবাবে এদিন শওকত বলেন, "নওসাদ ভাঙড় নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। চাইলে আমরা তো ওকে আসামি বানাতে পারতাম। তা করিনি, কারণ, আমরা চাই সঠিক তথ্য সামনে আসুক। আশা করি, পুলিশ প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করবে।"
নওসাদের আরও অভিযোগ, “শওকতের অতীত খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, এর আগেও বহু রক্তাক্ত ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। রাজ্জাক খাঁ আগে আরাবুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরে চাপ দিয়ে তাঁকে নিজের গোষ্ঠীতে টেনে আনেন শওকত। এটাই বিরোধের মূলে।”
যদিও নওসাদের দাবি উড়িয়ে শওকত বলেন, " রাজ্জাক এলাকায় জনপ্রিয় নেতা ছিল, তাই ওকে খুন করেছে আইএসএফের দুষ্কৃতীরা। ১ বছর আগে ওকে ওরা থ্রেটও করেছিল।"
পাল্টা হিসেবে মৃত নেতার পরিবারের কথাও তুলে ধরেছেন নওসাদ। তাঁর দাবি, “রাজ্জাকের পরিবারের লোকেরাও বলছেন, এটা ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন। আমি শুধু একা নই, এলাকার মানুষও একই কথা বলছেন।”
ভাঙড়ে নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন তুলে নওসাদের মন্তব্য, “ডিভিশন হওয়ার পরেও ভাঙড়ে যদি খুনের মতো ঘটনা ঘটে, তবে সেটা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। মানুষ এখনও আতঙ্কে।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, রাজ্জাক খাঁর পরিবার যদি চায়, তিনি সিবিআই তদন্তের দাবিতে আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকবেন।
এ ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা তহ্বা সিদ্দিকি। তাঁর কথায়, "যে মারছে সেও মুসলমান, যে মরছে সেও মুসলমান। রাজ্জাক মারা গেল তার পরিবারটারকী হবে। এরকম সব দলেই রাজ্জাকরা মরছে, আর বড় বড় নেতাদের ফায়দা হচ্ছে।" তহ্বার আবেদন, "রাজনৈতিক লড়াই করুন, কিন্তু খুনোখুনি করবেন না"।