তাঁদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় বারবার হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন ভারতীয় মৎস্যজীবীরা।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 20 December 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশি নৌসেনার বিরুদ্ধে (Bangladeshi Navy) ভারতীয় মৎস্যজীবীদের উপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ তুলে উত্তাল কাকদ্বীপ (Fishermen, Kakdwip)। শনিবার সকালে প্রতিবাদ মিছিল ও সভায় শামিল হলেন মৎস্যজীবী শ্রমিক পরিবারগুলি। বাংলাদেশি জাহাজের ধাক্কায় ভারতীয় ট্রলার এফবি পারমিতা ১১ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দু’জন মৎস্যজীবীর মৃত্যু এবং তিন জনের এখনও নিখোঁজ থাকার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি।
এদিন কাকদ্বীপের বামুনের মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে এসডি ১৯ বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সভা থেকে মৎস্যজীবীরা নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জোরালো দাবি তোলেন। পাশাপাশি, নিখোঁজ ও মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ট্রলার মালিক ও সংগঠনগুলির কাছে আর্থিক ও মানবিক সহায়তার দাবিও ওঠে।
মৎস্যজীবীদের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতীয় নৌসেনা যতক্ষণ পর্যন্ত সমুদ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করছে, ততক্ষণ মাছ ধরতে নামবেন না তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় বারবার হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন ভারতীয় মৎস্যজীবীরা।
সভায় নিখোঁজ মৎস্যজীবীর স্ত্রী সাবিতা দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্বামী কবে ফিরবেন তার কোনও খোঁজ নেই। একই সুরে নিখোঁজ মৎস্যজীবীর মেয়ে সুস্মিতা দাস বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে গোটা পরিবারের। মৃত মৎস্যজীবী শেখ রাজ দুয়ারির মা রিজিয়া বিবি ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান। মৎস্যজীবী হরি দাস বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর সমুদ্রে যাওয়া সম্ভব নয়। নিরাপত্তা চাই।”
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের আবহ। মৎস্যজীবী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও জীবিকা, দুই প্রশ্নই এখন এক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।