শোরগোল শুধু বডি মাসাজ নিয়েই নয়। তার চেয়েও বেশি আলোড়ন তুলেছে পোস্টারের সেই ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ লাইন,
“থানা মেন্টেন করে কাজকরা হয়! বড় বড় অক্ষরে লেখা সেই বাক্যই যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 December 2025 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাবলিক টয়লেট পেরিয়ে কবে যে এই ‘ব্যবসা’র হাতছানি লোকাল ট্রেনের কামরায় (Local Trains, Posters) ঢুকে পড়েছে, তার ঠিক নেই। বডি মাসাজ (Body Massage), ‘স্পেশাল সার্ভিস’, অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বর হাতছানির পোস্টার, সবই এখন নিত্যযাত্রীদের চোখের সামনে। সঙ্গে রগরগে ছবি। কিন্তু শুক্রবার সকালে ডাউন মধ্যমগ্রাম–মাঝেরহাট লোকালে যে পোস্টার চোখে পড়েছে, তা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
শোরগোল শুধু বডি মাসাজ নিয়েই নয়। তার চেয়েও বেশি আলোড়ন তুলেছে পোস্টারের সেই ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ লাইন,
“থানা মেন্টেন করে কাজকরা হয়! (Thana Maintain, Police Station)”
বড় বড় অক্ষরে লেখা সেই বাক্যই যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। পোস্টারে নিজেকে ‘পুয়ালকাকু মুন্নাভাই’ বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির নাম। সঙ্গে পাঁচটি মোবাইল নম্বর। ঠিকানা—বিরাটি অশোকপল্লী পাইকপাড়া। দামও খোলাখুলি, “সটে ২০০, ৩০ মিনিটে ৩০০ টাকা। এখানে যত্ন সহকারে কাস্টমার সার্ভিস দেওয়া হয়।” আর পোস্টারের মাঝখানে সেই লাইন, “বি.দ্র. থানা মেন্টেন করে কাজকরা হয়।”
শুক্রবার সকালে ওই পোস্টার দেখা যায় ডাউন লোকালের একাধিক কামরায়। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফুঁসছেন নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের প্রশ্ন, রেলে এই ধরনের পোস্টার দেওয়া বেআইনি, তবু দিনের পর দিন কী ভাবে চলছে? রেল পুলিশ কি কিছুই জানে না?
আর রাজ্য পুলিশকে ঘিরে অভিযোগ আরও তীব্র। যাত্রীদের একাংশের কথায়, “পোস্টারেই যদি এত জোর দিয়ে ‘থানা মেন্টেন’-এর কথা লেখা থাকে, তা হলে কি পুলিশের মদত ছাড়া এমন দুঃসাহস সম্ভব? মাসোহারা না পেলে এ ভাবে নাম করে পোস্টার মারবে কেন?”
পোস্টারে দেওয়া নম্বরগুলির একটিতে ফোন করা হলে ওপার থেকে এক মহিলা নিজেকে টুম্পা পাল বলে পরিচয় দেন। বিরাটির কোন জায়গা জানতে চাইলে সংক্ষিপ্ত জবাব, “স্টেশনে এসে ফোন করুন, আমাদের লোক নিয়ে আসবে!”
এর বেশি কথা বলতে চাননি তিনি। আর একটি নম্বরে যোগাযোগ করলে শিবশঙ্কর যাদব নামে এক ব্যক্তি প্রায় একই কথা বলেন। যে এলাকায় ‘সার্ভিস’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা নিমতা থানার অন্তর্গত। নিমতা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্য দিকে, রেল পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠেছে অসহায়ত্ব। বালিগঞ্জের এক রেল আধিকারিক আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমরাও এই সব পোস্টার নিয়ে বিরক্ত। ট্রেনে এ ভাবে পোস্টার মারা যায় না। কিন্তু কখন, কোথায় ওরা পোস্টার লাগায়, সেটা ধরাই যায় না। সম্ভবত কার শেডে ট্রেন ওয়াশে যাওয়ার সময়েই ওরা এই কাজটা করে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও ‘রাজপরী’ নামে এক পোস্টার নিয়ে শোরগোল হয়েছিল। ফোন নম্বর ধরে ট্রেস করেও লাভ হয়নি, জানি না ওরা কী টেকনোলজি ব্যবহার করে, যে ফোন নম্বর ধরে ঠিকানা পাওয়া যায় না! ফলে একদল লোক নোংরামো করে, আর সারাদিন কাজ করেও আমাদেরই শেষে পাবলিকের কাছে ভিলেন হতে হয়।”
লোকাল ট্রেনের কামরায় ঝুলে থাকা সেই কাগজের টুকরো তাই এখন শুধু পোস্টার নয়, প্রশ্নচিহ্ন। আইন, নজরদারি আর পুলিশের ভূমিকা, সবকিছুকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ‘থানা মেন্টেন’ লেখা ওই কয়েকটি শব্দ।