মেদিনীপুর পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে বনকর্মীদের মধ্যে। রাতের অন্ধকার ভেদ করে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যে কোনও প্রাণীর অবস্থান এই ড্রোন মুহূর্তে ধরে ফেলতে পারে। ফলে শুধু হাতির পালই নয়, বন্যশিকারি বা সন্দেহভাজন গতিবিধিও ধরা পড়বে সহজেই।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 December 2025 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলে রাত নামলেই দুশ্চিন্তা বাড়ত গ্রামবাসীদের। কোথায় যাচ্ছে হাতির পাল, কোন গ্রামে ঢুকে পড়বে—কেউ আগেভাগে বুঝে উঠতে পারতেন না। সেই দীর্ঘদিনের উদ্বেগই এবার কমতে চলেছে। কারণ, হাতির গতিবিধি নজরে রাখতে প্রথমবারের মতো থার্মাল ড্রোন নামাল রাজ্যের বন দফতর (Forest Department has launched thermal drones for the first time to monitor elephant movements)।
মেদিনীপুর পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে বনকর্মীদের মধ্যে। রাতের অন্ধকার ভেদ করে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যে কোনও প্রাণীর অবস্থান এই ড্রোন মুহূর্তে ধরে ফেলতে পারে। ফলে শুধু হাতির পালই নয়, বন্যশিকারি বা সন্দেহভাজন গতিবিধিও ধরা পড়বে সহজেই।
থার্মাল ক্যামেরা-সমৃদ্ধ ড্রোনটির ব্যাটারি ব্যাকআপ ৩০-৪০ মিনিট। প্রয়োজন হলে ব্যাটারি বদলে আরও দীর্ঘক্ষণ আকাশে রেখে টহল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগে রাতের বেলায় জঙ্গলে ঢুকে টহল দেওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমসাধ্য। এখন দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে হাতির চলার দিক, গতি ও অবস্থান—দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে কোথায় হুলা দল পাঠানো হবে, কোন গ্রামকে সতর্ক করা দরকার।
বন দফতর মনে করছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হলে মানুষ-হাতি সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। দক্ষিণবঙ্গের বহু এলাকায় রাতে হাতির হানা ক্রমশ বাড়ায় চাষের ক্ষতি তো হয়ই, অনেক সময় প্রাণহানিও ঘটে। তবে এবার আকাশপথে নজরদারির ফলে বিপদের আগেই সতর্ক করা যাবে গ্রামবাসীদের।
এছাড়া, গ্রামে গ্রামে হুলা দলের সদস্যদেরও ড্রোনের তথ্য জানানো হবে। ফলে আর অনুমানের উপর নির্ভর করতে হবে না—যে পথে হাতি আসছে, সেই পথেই তৈরি থাকবে প্রতিরোধ। বন দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, “এখন থেকে রাত মানেই আতঙ্ক নয়। আগে থেকেই জানা যাবে হাতির অবস্থান, পাল কোন দিকে যাচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বনরক্ষীদের কাজ হবে আরও দ্রুত, আরও নিরাপদ।”
দক্ষিণবঙ্গের বনাঞ্চলে হাতি-সংরক্ষণ ও গ্রামবাসীর নিরাপত্তার লড়াইয়ে এই থার্মাল ড্রোন যেন এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। আর গ্রামবাসীদের মুখেও ফুটে উঠছে স্বস্তির হাসি, হাতির খোঁজে আকাশে যে উড়ছে থার্মাল ড্রোন!