Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

টিকিট নয়, সততাই পুঁজি! ভোটের মুখে দলের অস্বস্তি বাড়াল বলাগড়ের বিধায়কের পোস্ট

তাঁর ভাষায়, “আমি মঞ্চে উঠলে কী বলে ফেলব, তার ভয় আছে। তাতে ওঁরা বিড়ম্বনায় পড়বেন।”

টিকিট নয়, সততাই পুঁজি! ভোটের মুখে দলের অস্বস্তি বাড়াল বলাগড়ের বিধায়কের পোস্ট

তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 20 December 2025 12:03

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬-এর ভোটের আগে (Assembly Election) ফের ফেসবুকে ঝাঁঝাল বার্তা বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর (Balagarh MLA's post ,  Tmc)। 

একই মাঠে বিজেপি ও তৃণমূল, দু’দলের সভা হলেও কোথাও আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়ে উঠতে থাকা প্রশ্নের জবাবে সরাসরি দলের অন্দরের ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। স্পষ্ট করে দিলেন, আমন্ত্রণ না পাওয়াটা ‘অস্বাভাবিক’ নয়, বরং ইচ্ছাকৃত।

ফেসবুক পোস্টে (Facebook Post) বিধায়ক লিখেছেন, বিজেপির সভায় আমন্ত্রণ না পাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু তৃণমূলের সভায় না ডাকাটাও যে কাকতালীয় নয়, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিস্তারে। তাঁর দাবি, সাড়ে চার বছরে বলাগড়ে যে কাজগুলো তিনি করেছেন, তা অনেক ‘নেতার’ কাছে সুখকর ছিল না।

ত্রিপল, কম্বল, কাপড়চোপড়— সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আঞ্চলিক নেতাদের হাতে না দিয়ে নিজে ঘুরে গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করেছেন তিনি। ব্যঙ্গের সুরে লেখেন, “নেতাদের হাতে ৫০টা দিলে ৪০টা রেখে ১০টা বিলির যে সুখ, তা থেকে আমি তাদের বঞ্চিত করেছি— এটাই আমার অপরাধ।”

অবৈধ মাটি উৎখনন ও বালি পাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, আগে যেখানে বছরে মাটি রাজস্ব বাবদ ২০-২৫ লক্ষ টাকার বেশি জমা পড়ত না, সেখানে তাঁর উদ্যোগে তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। “যে টাকা নেতাদের পকেটে যেত, সেটাকেই সরকারের ঘরে জমা দিতে বাধ্য করেছি,” লিখেছেন তিনি। ফলে ‘তাবড় তাবড়’ নেতারা তাঁর উপর ক্ষুব্ধ— এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

গুপ্তিপাড়ায় বালি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান, গরু পাচার, গাঁজা পাচার, রেশন দুর্নীতি, জুয়া— সব কিছুর বিরুদ্ধেই ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন মনোরঞ্জন। সবুজদ্বীপ থেকে রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে পাচার রোখার কথাও উল্লেখ করেছেন পোস্টে।

এই সবের জেরেই এখন তাঁকে সভায় ডাকা হয় না, এমনটাই তাঁর ব্যাখ্যা। তাঁর ভাষায়, “আমি মঞ্চে উঠলে কী বলে ফেলব, তার ভয় আছে। তাতে ওঁরা বিড়ম্বনায় পড়বেন।”

পোস্টের শেষ ভাগে আত্মসমালোচনার সুর। নিজেকে ‘অতি তুচ্ছ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, বিধায়ক হওয়ার যোগ্যতা তাঁর ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলেই দাবি। আর কয়েকটা দিন বাকি— সেটুকু পার করে দিলেই যথেষ্ট, এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

পরের বার টিকিট পাওয়া না-পাওয়া নিয়েও উদাসীন মনোরঞ্জন। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রাজনীতি তাঁর কাছে চাকরি বা ব্যবসা নয়। বিধায়ক না হলেও জনসেবার জন্য তাঁর কাছে আরও অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শেষে অনুরোধ— “এই বিষয়ে আর আমাকে কেউ প্রশ্ন করবেন না।”

দলের অন্দরের এই খোলা ক্ষোভ ভোটের মুখে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


```