অনেকেরই কৌতূহল, তাহলে কি বার্ধক্য ভাতার (Bardhaka bhata) টাকার অঙ্কের স্থিরতা বজায় থাকবে, বাড়বে না? ৬০ বছর পর্যন্ত যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন, বয়সের দোরগোড়ায় পৌঁছলে তাঁদের প্রাপ্য কি কমে যাবে?

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 6 February 2026 17:12
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Laxhmir Bhander) অঙ্ক বাড়তেই রাজ্যজুড়ে একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই কৌতূহল, তাহলে কি বার্ধক্য ভাতার (Bardhaka bhata) টাকার অঙ্কের স্থিরতা বজায় থাকবে, বাড়বে না? ৬০ বছর পর্যন্ত যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন, বয়সের দোরগোড়ায় পৌঁছলে তাঁদের প্রাপ্য কি কমে যাবে? নবান্নের তরফে সদ্য পাওয়া ইঙ্গিত সেই আশঙ্কাতেই জল ঢেলেছে। বরং উল্টো ছবি স্পষ্ট হচ্ছে। বার্ধক্য ভাতার অঙ্কও বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের (West Bengal Govt) সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির ভিত ধীরে ধীরে মজবুত করা হচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৫০০ টাকা বৃদ্ধি তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ। সদ্য ঘোষিত যুবসাথী প্রকল্প (Yuba Saathi) তো আছেই। অনেকেই বলাবলি করছেন, এই বৃদ্ধি শুধু আর্থিক নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাও বহন করে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, এত বড় ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে কি অন্য প্রকল্পগুলিতে কাটছাঁট হবে? বিশেষ করে বার্ধক্য ভাতা, যা সমাজের সবচেয়ে অসহায় অংশের ভরসার জায়গা, সেই প্রকল্পের টাকার অঙ্ক নিয়ে কিন্তু কিন্তু তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু নবান্ন সূত্রের ইঙ্গিত বলছে, এত চিন্তা-ভাবনার কোনও ভিত্তি নেই। বরং রাজ্য সরকার বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে। এত দিন যে ভাতা ১,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, তা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত যে অঙ্ক মিলছে, বার্ধক্যে পৌঁছনোর পরেও সেই আর্থিক নিরাপত্তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।
এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা নীতির এক ধরনের ‘লাইফ-সাইকেল কভারেজ’ হিসেবে দেখছেন। কর্মক্ষম বয়সে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, তার পরে বার্ধক্য ভাতা, একটির সঙ্গে আর একটির সেতুবন্ধন তৈরি করে সরকার বুঝিয়ে দিচ্ছে, বয়স বদলালেও সহায়তার হাত সরবে না। অর্থাৎ বুঝিয়ে দিতে চাইছে, ভোটমুখী রাজনীতির বাস্তবতা যেমন এখানে আছে, তেমনই রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতাও।
তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলতেই পারেন, এই আর্থিক সহায়তা কি মূল্যবৃদ্ধির চাপে যথেষ্ট? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্কও আবার অপ্রতুল হয়ে পড়বে? তবু বর্তমান বাস্তবতায়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধির পাশাপাশি বার্ধক্য ভাতার অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে স্বস্তির। অন্তত এটুকু স্পষ্ট, এক প্রকল্পকে শক্ত করতে গিয়ে অন্যটিকে দুর্বল করার পথে হাঁটছে না রাজ্য সরকার।