খালি হাতে যাচ্ছেন না শিবে। যাঁকে ভাই বলে মনে করেছেন, তাঁর সামনে গিয়ে তিনি শ্রদ্ধার নিদর্শন তুলে ধরবেন আর্জেন্টিনার জার্সির রঙে রাঙানো নিজের বাড়ির ছবি, মেসিকে নিয়ে তাঁর বহু বছরের কর্মকাণ্ডের বাঁধাই করা অ্যালবাম।

শেষ আপডেট: 12 December 2025 19:04
প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা: ব্যারাকপুরের ইছাপুর নবাবগঞ্জের সরু গলি। সেখানে ভোরের আলো ফুটতেই দোকানের ঝাঁপ ওঠে শিবে পাত্রর। তিনি কেটলি চাপান উনুনে। শুরু হয় দিনভর চা বানানোর পালা। সেই ব্য়স্ততার ফাঁকেই অহরহ স্বপ্ন দেখেন তিনি। ফুটবলের ঈশ্বরের সঙ্গে একবার যদি দেখা হয়।
আসলে যেদিন প্রথম মেসিকে খেলতে দেখেছিলেন, সেদিনই যেন এক অদৃশ্য সম্পর্কে বাঁধা পড়েন। মেসি যেন শুধু তাঁর আইডল নন, মেসি তাঁর ‘ভাই’। সেই বন্ধন এত গভীর যে গত ১৪ বছরে একবারও বাদ পড়েনি মেসির জন্মদিন পালন। প্রতি বছর তিনি কেক কাটেন, আয়োজন করেন উৎসবের। এ বছর নিয়ম মেনে মেসির বয়সের সমান ওজনের কেক কেটেছেন পাড়ার সবাইকে নিয়ে। আয়োজন করেছেন মেসির নামে ফুটবল প্রতিযোগিতার।
বাবা স্বপ্ন দেখেন ঈশ্বরের সঙ্গে একবার অন্তত মুখোমুখি দেখা করার। আর বাবাকে খুশি করতে সেই স্বপ্ন ছিল মেয়ে নেহা পাত্র দাসেরও দু-চোখে। তিনিই এই স্বপ্নযাত্রার আসল কান্ডারী। তিনিই বারবার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, লড়াই করেছেন বাবার বিশ্বাসকে ধরে রাখতে। শেষপর্যন্ত সুযোগও এল। শনিবার কলকাতায় আসছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। এতদিনের পুষে রাখা স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে শিবে পাত্রর। মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই ঘটনা ঘিরে গোটা নবাবগঞ্জ যেন উৎসবে মেতে উঠেছে। রাস্তা জুড়ে আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা, নীল-সাদা রঙে রঙিন দেওয়াল।
খালি হাতে যাচ্ছেন না শিবে। যাঁকে ভাই বলে মনে করেছেন, তাঁর সামনে গিয়ে তিনি শ্রদ্ধার নিদর্শন তুলে ধরবেন আর্জেন্টিনার জার্সির রঙে রাঙানো নিজের বাড়ির ছবি, মেসিকে নিয়ে তাঁর বহু বছরের কর্মকাণ্ডের বাঁধাই করা অ্যালবাম। তাতে যদি মেসি নিজের হাতের স্বাক্ষর করে দেন, সেটাই হবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। শুক্রবারও দোকান খুলেছেন তিনি। চা বিক্রি করেছেন। তারই ফাঁকে শিবে পাত্র বলেন, “অনেক কথা শুনেছি, অনেকেই হাসাহাসি করেছে। কিন্তু আমি থামিনি। ঈশ্বরকে একবার দেখতে পারলে জীবনটাই সার্থক।”