মোবাইল হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছাত্রছাত্রীদের দেখে হঠাৎই মাইকে ‘কড়া স্যার’-এর ভূমিকায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 August 2025 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (Tmcp) প্রতিষ্ঠা দিবসে মেয়ো রোডের জমজমাট মঞ্চ যেন মুহূর্তের জন্য ক্লাসরুমে পরিণত হল!
মোবাইল হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছাত্রছাত্রীদের দেখে হঠাৎই মাইকে ‘কড়া স্যার’-এর ভূমিকায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বললেন, “ছবি তুললে কিছু মনে থাকবে না। নোটবুক-কলমে লিখে রাখো। এ সব সমাবেশে গেলে নোট নাও, অভ্যাস করো।”
এরপরই ‘শিক্ষিকা’ মমতা শুরু করলেন উন্নয়নের পাঠ। ২০১১ থেকে এ যাবৎ রাজ্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন একে একে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিরোধীদের বাধা সত্ত্বেও রাজ্যের আয় বেড়েছে সাড়ে পাঁচ গুণ। দারিদ্রসীমার নীচ থেকে উঠে এসেছে প্রায় দু’কোটি মানুষ। শিক্ষা পরিকাঠামোয় খরচ হয়েছে ৬৯ হাজার কোটি টাকা। আইটিআই, পলিটেকনিক, মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হয়েছে একের পর এক। সঙ্গে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, স্কুল ড্রেস, জুতো, বিদ্যাশ্রী— সবই ‘বাংলার মডেল’।
কন্যাশ্রীকে তিনি মনে করিয়ে দিলেন ‘বিশ্বের গর্ব’। বললেন, “যখন ভারতের কেউ ভাবতে পারেনি, আমরা তখন কন্যাশ্রী করেছি। আজ সেটাই পৃথিবীর মডেল।”
তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ৯২ হাজার পড়ুয়া পেয়েছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। মেধাশ্রী, ঐক্যশ্রী, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ মিলিয়ে ৪ কোটিরও বেশি পড়ুয়া সুবিধা পেয়েছে। ৩৬ লক্ষ ৫৫ হাজার জনকে দেওয়া হয়েছে বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ।
নিজের ছাত্র আন্দোলনের দিনগুলির স্মৃতিচারণায় মমতা বললেন, “যোগমায়া দেবী কলেজে আমি ছাত্র পরিষদ ইউনিট গড়েছিলাম। তখন মহিলা নেতা কম ছিল। তাই আমাকেই সারা ভারত ঘুরে বক্তৃতা দিতে হত।”
রাজনীতির পাঠও এ দিন বাদ গেল না। বিজেপি-বাম সব প্রতিপক্ষকেই এক নিশানায় টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ তৃণমূলকে একসঙ্গে সব শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হয়।”
তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণ, স্বাধীনতার সময় যাঁরা ব্রিটিশের দালালি করেছিলেন, তাঁরাই আজ ইতিহাসের পাঠ ভুলিয়ে দিচ্ছেন। কেরলের পাঠ্যবইতে নেতাজিকে ‘ভয়ে পালানো’ বলা হচ্ছে— এ নিয়েও তোপ দাগেন তিনি।
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত রেখেই মমতার ঘোষণা, “আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের আসন আরও বাড়বে।”