অমিত শাহকে নিশানা করে মমতার তোপ, “আপনি পরিবারতন্ত্রের কথা বলেন, অথচ আপনার ছেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগ নেই, তবুও রাজনীতির সর্বত্র আপনার পরিবারের ছড়াছড়ি। ললিপপ দিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে রাখছেন। আমরা কিন্তু অধিকার দিই, ললিপপ নয়।”

ছাত্র সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 August 2025 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংবিধান সংশোধনী বিলের (SIR) বিতর্কের আবহে ফের মোদী সরকারকে (Modi Government) নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার মেয়ো রোডে টিএমসিপি-র ছাত্র সমাবেশ থেকে তৃণমূলনেত্রীর কটাক্ষ, “আমাদের আছে লক্ষ্মীর ভান্ডার, আর বিজেপির আছে দুর্নীতির ভান্ডার!”
মঞ্চ থেকে তিনি আরও বলেন, “মোদীজি সারাক্ষণ ‘দুর্নীতি’ বলে চিৎকার করেন। অথচ সারা দেশে যেখানে যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় আছে, সেখানে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-গুজরাট মডেলই আসল চিত্র। আমরা বাংলায় মানুষকে প্রকৃত সামাজিক নিরাপত্তা দিতে কাজ করি, আর ওরা মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়।”
মমতার কটাক্ষ, “যতই চক্রান্ত কর কোন লাভ হবে না। সারা ভারত থেকে ৫০০ টা টিম নিয়ে এসেছে। কার নাম বাদ দেওয়া যায়, সেই চক্রান্ত চলছে।"
এই প্রসঙ্গে ছাত্রদের সতর্ক করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, "আমি সবাইকে বলছি — নিজের ভোটার লিস্ট দেখে নেবেন। আধার কার্ডটা করে রাখবেন, কারণ ওরা অন্যের ডিটেলস নিয়ে গিয়ে ভোট কেটে দিতে পারে।”
বিজেপির সরকারকে ‘ললিপপ সরকার’ বলেও কটাক্ষ করে মমতার দাবি, “বিডিও, এসডিও, ডিএম, পুলিশকে ভয় দেখাচ্ছে, বলছে চাকরি খেয়ে নেব, জেলে ঢুকিয়ে দেব। কিন্তু মনে রাখবেন, ইলেকশন কমিশন আসে যায়, ওদের আয়ু তিন মাস। গায়ের জোরে এ সব হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কাছেও ফান্ডা আছে। যেমন আমাদের কাছে লক্ষীর ভান্ডার আছে, তেমনই দুর্নীতির ভান্ডারের ফাইলও আছে। দরকার হলে সব ফাঁস করে দেব।”
অমিত শাহকে নিশানা করে মমতার তোপ, “আপনি পরিবারতন্ত্রের কথা বলেন, অথচ আপনার ছেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগ নেই, তবুও রাজনীতির সর্বত্র আপনার পরিবারের ছড়াছড়ি। ললিপপ দিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে রাখছেন। আমরা কিন্তু অধিকার দিই, ললিপপ নয়।”
তৃণমূলের শক্তির জায়গা মানুষের আশীর্বাদ— সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দেন তিনি। “তৃণমূল মানুষের আশীর্বাদে তৈরি। আমরা কখনও লড়াই ছেড়ে দিইনি, দিতেও পারব না। বাংলার মানুষ জানে, বাংলা যা পারে অন্যরা পারে না। তাই আগামী নির্বাচনে আসন আরও বাড়বে।”
মমতার বার্তা ছিল স্পষ্ট— ভোটের ময়দানে চক্রান্ত নয়, মানুষের সমর্থনই শেষ কথা।